কুন্তল পাল, বনগাঁ: সকালের বাগদা হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে জমজমাট। রাস্তার পাশে জড়ো করা ছিল ফুলকপি। আচমকা একটি গোরু এসে সেখান থেকে মনের আনন্দে ফুলকপি খাওয়া শুরু করল। খানিক হইচই হল। চলল নানা রঙ্গরসিকতাও। ভিড় থেকে একজন বলে উঠলেন, ‘এখানে গোরু খাচ্ছে ফুলকপি। আর বাগদার ভোটে এবার ফুলকপি খেয়ে নেবে পদ্ম!’ চারদিকে হাসির রোল উঠল। রাজনীতির চূড়ান্ত বাস্তবতা হল, বাগদার মাটিতে এবার ‘ফুলকপি’ই কার্যত নির্ণায়ক হয়ে উঠেছে বিধানসভা ভোটের জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে।
বিষয়টি কী? বাগদার দু’বারের বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা দুলাল বর এবার নির্দল প্রার্থী হিসাবে এই কেন্দ্রে ভোটে লড়ছেন। তাঁরই প্রতীক ‘ফুলকপি’। সেই কারণেই ফুলকপি নিয়ে চর্চা চলছে বাগদাজুড়ে। দুলালবাবু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাগদার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন। কখনও চলন্ত বাসে উঠে পড়ছেন। চিনিয়ে দিচ্ছেন ‘ফুলকপি’। টোটো থামিয়েও ভোট ভিক্ষা করছেন তিনি।
বাগদায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে দুলাল বরের। মতুয়া ভক্তদের মধ্যেও তাঁর প্রভাব যথেষ্ট। রাজনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন, দুলালবাবু এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতুয়া, উদ্বাস্তু ভোট পেতে চলেছেন। তাই প্রমাদ গুনছে বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় থেকে বাগদার বেশিরভাগ মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করে এসেছেন।
বাগদা বিধানসভা এলাকাটি মতুয়া অধ্যুষিত। এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নাম বাদ গিয়েছে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মতুয়া ও উদ্বাস্তু। এনিয়ে মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভও সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই জোড়া ফলায় বিদ্ধ হচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর! একে তিনি বাগদায় ‘বহিরাগত’। পাশাপশি, এসআইআরে সংক্রান্ত ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুলালের নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়ে পড়ার ঘটনা। সব মিলিয়ে ব্যাকফুটে বিজেপি। যদিও বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরের দাবি, ‘দুলালবাবুকে মানুষ দলবদলু হিসাবেই চেনে। মানুষের মধ্যে তাঁর কোনো ভাবমূর্তি আর বেঁচে নেই। তাঁর ভোটে দাঁড়ানো কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ দুলালবাবু বলেন, ‘ঘরের ছেলেকেই বাগদার মানুষ বিধায়ক হিসাবে চান। সেই কারণেই আমার ভোটে দাঁড়ানো।’