লিডস: সেঞ্চুরির পর ডিগবাজি! আইপিএলের পর টেস্টের আঙিনাতেও। হেডিংলেতে ঋষভ পন্থের সেলিব্রেশন অবশ্য চিহ্নিত ‘কার্টহুইল’ হিসেবে। ছক্কা মেরে শতরানের পর বাঁ-হাতির উচ্ছ্বাস মুহূর্তের মধ্যে সাড়া ফেলল। যশস্বী জয়সওয়াল, শুভমান গিলের পর অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির প্রথম টেস্টে শতরান করলেন তিনি। ধ্রুপদী ঘরানায় যা তাঁর সপ্তম সেঞ্চুরি। তবে তিন-তিনজন শতরানকারীর পরও ম্যাচের রিমোট পকেটে পুরতে পারেনি ভারত। যশপ্রীত বুমরাহ পয়লা ওভারেই আঘাত হানলেও দমে যায়নি ইংল্যান্ড। উল্টে ‘বাজবল’ মেলে ধরে ঝড়ের গতিতে রান তুলে হোমটিম। দ্বিতীয় দিনের শেষে স্টোকস-ব্রিগেডের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০৯। শতরান হাঁকিয়ে ক্রিজে আছেন ওলি পোপ (১০০)। তাঁকে সঙ্গত করছেন হ্যারি ব্রুক (০)।
ব্রুকের অবশ্য উপরওয়ালাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। দিনের শেষ ওভারে বুমরাহর বাউন্সারে মাত খেয়েছিলেন এই ইংলিশ ব্যাটার। শর্ট মিড অনে মহম্মদ সিরাজের তালুবন্দি হন। কিন্তু আম্পায়ার নো বলের ইশারা করলে হতাশা গ্রাস করে ভারতীয় শিবিরে। তবে যশপ্রীতের প্রশংসা করতে হবে। শনিবার তিনটি উইকেটেই তাঁর শিকার। বাকি ভারতীয় বোলারদের একেবারেই সাদামাটা দেখাল। পাশাপাশি ফিল্ডিংও পাতে দেওয়ার নয়। জাদেজা ও যশস্বী সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন।
ভারতের ইনিংসে গিলের সঙ্গে পন্থ যখন খেলছিলেন, তখন সাড়ে পাঁচশোর সম্ভাবনা ডালপালা মেলছিল। প্রথম ঘণ্টায় পড়েনি উইকেট। চারশো পেরিয়ে রীতিমতো রানের পাহাড়। ক্রমশ হতাশা গ্রাস করছিল বিপক্ষকে। এমন সময়েই আচমকা পটপরিবর্তন। দেড়শোর কাছাকাছি পৌঁছে গিলের সুইসাইড স্ট্রোকই পাল্টে দিল ম্যাচের গতিপথ। কেন যে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বশিরকে তুলতে গেলেন আকাশে!
অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে তিনি যখন ফিরছেন, স্কোর ৪৩০-৪। এরপরই নামল ধস। বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো দায়সারা শটে ফিরলেন করুণ নায়ার, শার্দূল ঠাকুররা। দায়িত্ববোধের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। অগত্যা, ৪৭১ রানে ভারতীয় ইনিংসের নটেগাছটি মুড়োল। ম্যাচে ফেরার অক্সিজেন পেয়ে গেল ইংল্যান্ড। শেষ সাত উইকেট মাত্র ৪১ রানে হারানোর নেপথ্যে কি আত্মতুষ্টি? পরিণত মানসিকতার অভাব তো বটেই। দলের ‘মহাগুরু’ কি ছাত্রদের বোঝাতে পারেননি যে এই পাটা পিচে সাড়ে চারশো তুললে চলবে না, অন্তত পাঁচশো পেরতেই হবে। গৌতম গম্ভীরকে অবশ্য সারাক্ষণই দেখা গেল ড্রেসিং-রুমের এককোণায় নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে থাকতে। তাঁর তো উচিত ছিল, পরবর্তী ব্যাটারদের ঢিলেমির বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেওয়া। ইংল্যান্ডকে নকআউট পাঞ্চ মারার মতো স্কোরে পৌঁছনো সবার আগে জরুরি। সেই তাগিদটাই দেখা গেল না। উল্টে ম্যাচে ফেরার সুযোগ প্লেটে সাজিয়ে দেওয়া হল স্টোকসদের। তিনজন শতরান করার পরও ভারতের ইনিংস থামল ৪৭১ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে যা বেনজির। ২০১৬ সালে সেঞ্চুরিয়নে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার তিনজন শতরান পেলেও স্কোর ছিল ৪৭৫। অর্থাত্, তিনজন সেঞ্চুরি করেছে এমন ইনিংসে সবচেয়ে কম রানের রেকর্ড ভারতেরই। ইংল্যান্ডের স্টোকস ও টাং ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন।
বৃষ্টির কারণে খানিকক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর শুরু হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস। আর ষষ্ঠ বলেই বুমরাহর ম্যাজিক ডেলিভারি। জ্যাক ক্রলি খোঁচা দিতে বাধ্য হলেন। বেন ডাকেট এবং ওলি পোপের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটা অনবদ্য ডেলিভারি করেন ‘বুমবুম’। কিন্তু ভাগ্যের সহায়তা মেলেনি। একবার তো ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ডাকেটের ক্যাচ ফস্কালেন জাদেজা। সেটাই কাল হল। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনে যোগ করেন ১২২। শেষ পর্যন্ত বুমরাহর বলেই স্টাম্প ছিটকে গেল ডাকেটের। অবশ্য পোপ থামেননি। ১২৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। তবে পরের বলেই জো রুটকে (২৮) ফিরিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা দেন বুমরাহ।