প্যারিস: ফরাসি ওপেনের ইতিহাসে দীর্ঘতম ম্যাচের নজির তো বটেই, আরও অনেক ঘটনার সাক্ষী থাকল রবিবারের ফাইনাল। জানিক সিনারের বিরুদ্ধে ৫ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের ম্যাচে নাটকীয় জয়ের পর কার্লোস আলকারাজকে তাই আবেগতাড়িত দেখাল। প্রথম দুই সেটে হারের পর তৃতীয় সেটে হারের মুখে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচণ্ড চাপের মুখে টানা তিনবার ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচান স্প্যানিশ তারকা। সেটাই টার্নিং পয়েন্ট। নিশ্চিত পরাজয়ের সামনে দাঁড়ানো আলকারাজ দুরন্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। লেখেন ইতিহাস। অভিভূত আলকারাজ বলে ওঠেন, ‘সত্যিই জিতেছি, ভাবতে পারছি না। সিনার যা দাপটে খেলছিল! জানি না কীভাবে ম্যাচটা বের করলাম।’
রাফায়েল নাদালের মতো ঠিক ২২ বছর এক মাস ও তিন দিনে কেরিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন তিনি। ২০০৮ সালে উইম্বলডনের ফাইনালে এই বয়সেই রজার ফেডেরারকে হারান নাদাল। ‘গুরু’ রাফাকে স্পর্শ করা নিয়ে আলকারাজের মন্তব্য, ‘এটাকে নিয়তিই বলব। এই পরিসংখ্যান হৃদয়ের খুব কাছের। কারণ, নাদালই আমার আদর্শ। উনিই অনুপ্রেরণা। এটা আমার কাছে মস্ত বড় সম্মানের। আশা করছি, এভাবেই এগিয়ে যেতে পারব।’
গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে আলকারাজের রেকর্ড এখন ৫-০। অর্থাৎ, প্রতিবারই জিতেছেন তিনি। সিনারের বিরুদ্ধে টানা পাঁচটা জয়েরও মালিক তিনি। তবে ভবিষ্যতে যে এই একাধিপত্য থাকবে না, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই আলকারাজের। তাঁর কথায়, ‘নিশ্চিতভাবেই সিনার এই হার থেকে শিক্ষা নেবে। এবং আরও শক্তিশালী হয়ে পরের বার ফিরবে। চিরদিন ওকে হারাতে পারব না। এই ম্যাচেই তো এমন খেলছিল যে নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম, কী করা যায়? তৃতীয় সেট পর্যন্ত তো অবিশ্বাস্য ছন্দে ছিল সিনার। আগামী দিনে ও অনেকবারই চ্যাম্পিয়ন হবে।’ এবার স্প্যানিয়ার্ডের লক্ষ্য উইম্বলডন। টানা তৃতীয়বারের জন্য ঘাসের কোর্টে খেতাব রক্ষা করাই চ্যালেঞ্জ তাঁর।
অন্যদিকে, হতাশ সিনার মেনে নিয়েছেন পরাজয়কে। বিশ্বের এক নম্বর বলেছেন, ‘হারলে খারাপ তো লাগবেই। রাতে ঘুম আসবে না। তবে তার জন্য কান্নাকাটি করব না। আর আমি তো ভাবিইনি যে এই জায়গায় আসব, ফরাসি ওপেনের দীর্ঘতম ম্যাচে অংশ নেব।’