Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি, জেলবন্দি অভিযুক্তকে রেহাই দিল আদালত

পুলিশি তদন্তে ছত্রে ছত্রে অসঙ্গতি। তার জেরে খুনের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন জেল হেপাজতে থাকা এক যুবক

পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি, জেলবন্দি অভিযুক্তকে রেহাই দিল আদালত
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশি তদন্তে ছত্রে ছত্রে অসঙ্গতি। তার জেরে খুনের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন জেল হেপাজতে থাকা এক যুবক। তাঁর নাম মাহাত আলি মোল্লা। সম্প্রতি আলিপুরের অষ্টম ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক মৈনাক দাশগুপ্ত এক রায়ে বলেছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের আনা অভিযোগ কোনওভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হল।

Advertisement

২০২২ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানা এলাকার ঝালতলায় খুন হয়েছিলেন রেজাউল সর্দার নামের এক যুবক। কেউ বা কারা ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে তাঁকে খুন করেছিল। পুলিশের অভিযোগ, পুরনো বিবাদের জেরেই মারা হয়েছিল ওই যুবককে। ঘটনার বেশ কয়েক মাস পর পুলিশ কর্ণাটক থেকে পরিযায়ী শ্রমিক মাহাত আলি মোল্লাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছিল।
মুক্তিপ্রাপ্ত যুবকের আইনজীবী মোহিত সরকার বলেন, ‘আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হ঩য়েছিল, তা আদালতের রায়েই প্রমাণিত। ন্যায়বিচার মেলায় আমরা সন্তেুষ্ট। আমার মক্কেলকে খুনের মতো একটি গুরুতর অভিযোগ এতদিন বয়ে বেড়াতে হয়েছে, এটাই দুর্ভাগ্যের।’ যদিও সরকারি আইনজীবী মামলার রায়ের নথি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলিপুর আদালতে চার্জশিট পেশ করেছিল পুলিশ। এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ২২ জন।
কী কারণে খুনের মামলা থেকে রেহাই পেলেন অভিযুক্ত? আদালত সূত্রের খবর, প্রথমত, ঘটনাস্থলের ফিঙ্গার প্রিন্ট রিপোর্টে অস্বচ্ছতা। দ্বিতীয়ত, পুলিশ অভিযুক্তের রক্তমাখা জামা‑প্যান্ট উদ্ধার করেছিল। তার ফরেন্সিক রিপোর্টে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া জামা‑প্যান্টে রক্তের দাগ মিলেছে। কিন্তু সেই রক্ত মানুষের, নাকি পশুর, এনিয়ে ধৃতের আইনজীবী প্রশ্ন তুললে তার স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি সরকারপক্ষ। কারণ, ফরেন্সিক রিপোর্টে এ বিষয়ে আলাদা করে কোনও উল্লেখ ছিল না। তৃতীয়ত, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তাঁর ফোনের যে কল-চার্ট পেশ করা হয়েছিল আদালতে, তা নিয়েও 
ধোঁয়াশা রয়েছে। চতুর্থত, বিভিন্ন সাক্ষীর বয়ানের মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য ছিল না। এই সমস্ত বিষয় আদালতের নজরে আসায় পুলিশি তদন্তই প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়ায়। 
যে কারণে এই খুনের মামলা থেকে অভিযুক্তকে রেহাই দেন বিচারক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ