নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আজ ষষ্ঠী। হুগলির জগদ্ধাত্রী নগরী চন্দননগরের ভোলবদলের কাজ প্রায় শেষ। রবিবারই অনেক মণ্ডপে দেবীর সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে কিছু জায়গায় মণ্ডপসজ্জার কাজ শেষ হয়নি। দিন পেরিয়ে রাত, রবিবার ব্যস্ততার প্রহর কাটিয়েছে চন্দননগর। নানা থিমের মণ্ডপে দিনভর চলেছে মণ্ডপসজ্জার চূড়ান্ত পর্বের ব্যস্ততা। সোমবার সমস্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গিয়েছে। এরই মধ্যে অবশ্য রবিবার আলোর মোহন সাজে সেজে উঠতে দেখা গিয়েছে চন্দননগরকে। পথঘাট আলোর রোশনাইয়ে ঢেকে। রাজপথ তো বটেই অলিগলিতেও দেখা গিয়েছে আলোর নয়নাভিরাম রোশনাই।
তবে প্রস্তুতি চলাকালীন রবিবার দুপুরের পর থেকে ভিড় আছড়ে পড়ে চন্দননগরে। একদিকে মনোরম আবহাওয়া অন্যদিকে ছুটির দিন হওয়ায় পঞ্চমীর রাতেই জনগর্জন শোনা গিয়েছে চন্দননগরের অলিগলি, রাজপথে। চন্দননগরের বাসিন্দারা তো বটেই বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ ভিড় জমিয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজোর মোহময় মৌতাতের টানে। আরও একটি বিষয় এদিন ভিড়কে আকৃষ্ট করেছে। ষষ্ঠী থেকে যানবাহন চলাচল নিয়ে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বলবৎ হয়ে যাবে চন্দননগরে। তার আগে বাইক বা গাড়িতে সফরের টানে চন্দননগরমুখী হয়েছিল ভিড়। উদ্যোক্তাদের অনেকেই দাবি করেন, পঞ্চমীর রাতে যে ভিড় হয়েছে তা অভূতপূর্ব। চন্দননগরের উত্তরাঞ্চল সর্বজনীনের পুজো উদ্যোক্তা মোহিত নন্দী বলেন, আমাদের মণ্ডপের অন্দর ও বাহিরসজ্জার কাজ রবিবারও হয়েছে। সোমবার দুপুরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পঞ্চমীর রাতেই মণ্ডপে ঠাসা ভিড় হয়েছিল। মূলত ছুটির দিন হওয়ায় বিপুল সংখ্যায় মানুষ পথে নেমেছিলেন। এদিন ব্যাপক ভিড় দেখা গিয়েছে চন্দনগরের খলিসানি সর্বজনীনে। চন্দননগরের স্টেশনের কাছেই ওই পুজো মণ্ডপ। ফলে ট্রেন যাত্রীদের ভিড়ের দাপট প্রথমেই সেখানে আছড়ে পড়ে। পুজো উদ্যোক্তা নিতাইচন্দ্র দাস বলেন, বহুবছর পঞ্চমীতে এমন বাঁধভাঙা ভিড় দেখিনি। চন্দননগরের কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, ভিড়ের দাপট এবার বাড়বে এই অনুমান আমাদের ছিলই। সেই কারণে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া আছে। এদিনের ভিড় সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছে। প্রায় সর্বত্র পুজোর প্রস্তুতিতে শেষপর্বের কাজ চলছে। ষষ্ঠীতে চন্দননগর জনসমুদ্র হয়ে উঠবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের।
বিকেল থেকেই এদিন চন্দননগরের সমস্ত মুখ্য সড়কের পাশাপাশি অলিগলিতে আলো জ্বলে ওঠে। আলোকসজ্জার পরীক্ষা করতে হয় বলে আগেভাগেই জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আলোকসজ্জার কারণেই পঞ্চমীতেই চন্দননগরে পুজো কার্যত শুরু। অন্তত ভিড়ের নিরিখে শুরু বলাই যায়। অসমাপ্ত মণ্ডপসজ্জাতেই মুগ্ধ হয়ে ভিড় পাক খেয়েছে চন্দনগরের পথেঘাটে। এদিন জলপথেও প্রচুর মানুষ এসেছিল। একদিকে দেবীর সাজ থেকে মণ্ডপের সাজে শেষপর্বের তুলির টান পড়েছে। অন্যদিকে হুমড়ি দিয়ে পড়েছে ভিড়। পঞ্চমীতেই সরগরম সাবেক ফরাসি কলোনির বিশ্বখ্যাত উৎসবের আঙিনা।