Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোল উৎসবে আসা ভক্তদের ঘরভাড়া দিয়ে লক্ষ্মীলাভ প্রায় ১৫০ পরিবারের

দোল উৎসবে আসা ভক্তদের ঘরভাড়া দিয়ে লক্ষ্মীলাভ প্রায় ১৫০ পরিবারের
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: একসময় পরিবার নিয়ে টালির ঘরে থাকতেন। সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে বেশ কয়েকবছর ধরে দোল উৎসবে আসা ভক্তদের ঘর ভাড়া দিয়ে ভালো টাকা রোজগার হয়েছিল। তা দিয়েই পাকা বাড়ি তুলেছেন কোলেরডাঙার চৈতন্যপল্লির বৃদ্ধা সরস্বতী ঘোষ। তিনি অবশ্য একা নন। কোলেরডাঙা রোডের প্রায় ১৫০পরিবার দোলের সময় বাইরে থেকে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের বা‌঩ড়ি ভাড়া দেন। হোম স্টের মতো সুবিধা পেয়ে এসমস্ত পরিবারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান বাইরে থেকে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা।

Advertisement

সরস্বতীদেবী জানালেন, দোলের সময় নিজেদের বসবাসের জন্য একটি ঘর রেখে বাড়ির বাকি ছয়টি ঘর ভা‌ড়া দেন তিনি। এর থেকে যে টাকা রোজগার হয়, তা দিয়ে পরিবারের সারাবছরের ধারদেনা শোধ করেন। বাকি টাকা ব্যবসার কাজে লাগান। সরস্বতীদেবী বলেন, বাইরে থেকে আসা ভক্তদের মাথা গোঁজার ঠাই দেওয়ায় ভগবান আমাকে মাথা গোঁজার পাকা আশ্রয় করে দিয়েছেন। এবারও দোলের আগে দিল্লি ও মথুরা থেকে দু’টি পরিবার এসেছে।
কোলেরডাঙা রোডের নেতাজিনগর, চৈতন্যপল্লি, ঢাকানগর, নতুনপাড়া এলাকার প্রায় দেড়শো পরিবার বাড়তি রোজগারের জন্য এসময় ঘর ভাড়া দেয়। দিল্লি, মুম্বই, উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি অনেক জায়গায় বিদেশ থেকেও পুণ্যার্থীরা আসেন। যাঁরা বাড়ি ভাড়া দেন, তাঁদের মধ্যে কেউ তাঁতশ্রমিক, কেউ টোটো চালক, কেউ ব্যবসায়ী বা অন্যের দোকানে চাকরি করেন। দোলের কয়েকটা দিন এভাবে যা রোজগার হয়, তা জমিয়ে কেউ বাড়ির নির্মাণকাজ করেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওই টাকা জমিয়ে রাখেন। এজন্য দোলের আগে থেকেই তাঁরা স্থানীয় মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খোঁজ নেন কবে ভিনদেশিরা আসছেন।
নেতাজিনগরের বাসিন্দা হরিরঞ্জন দত্ত বলেন, বাড়িতে দু’টি ঘর আছে। এর মধ্যে পাকা ঘরটা এসময় ভাড়া দিয়ে দিই। আর আমরা টিনের ঘরটায় থাকি। পাঁচবছর ধরে হায়দরাবাদ থেকে আসা পুণ্যার্থীদের ভাড়া দিচ্ছি। ওরা মন্দিরে প্রসাদ খান। শুধু রাতে ঘরে এসে ঘুমান। অরুণ বণিক বলেন, দিল্লি থেকে চারজনের একটি পরিবার আসছে। তাঁরা আগের বছরও এসেছিলেন। মাথাপিছু দেড়শো টাকা করে ভাড়া দেন।
দিল্লি থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন গুড্ডি যোশি। তিনি বলেন, আমরা পাঁচজন দু’বছর ধরে এসময় এবাড়িতে আসছি। এই বাড়ির মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে যেন একাত্ম হয়ে গিয়েছি।
১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবাশিস ঘোষ বলেন, স্থানীয় কেশবজী গৌড়ীয় মঠে দোল উৎসবে এই ভক্তরা আসছেন। আমি বাসিন্দাদের বলেছি, খোঁজখবর নিয়ে ও পরিচয়পত্র দেখে তবেই যেন ঘরভাড়া দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ভাড়াটেদের ফোন নম্বরও রাখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ