Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিরামহীন বৃষ্টি, ক্ষতির মুখে নদীয়ার ফুল চাষ

বর্ষার জেরে নদীয়া জেলার ফুল চাষ নিয়ে কার্যত প্রমাদ গুনছেন চাষিরা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় আপাতত রাতের ঘুম উড়েছে তাঁদের।

বিরামহীন বৃষ্টি, ক্ষতির মুখে নদীয়ার ফুল চাষ
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট:  বর্ষার জেরে নদীয়া জেলার ফুল চাষ নিয়ে কার্যত প্রমাদ গুনছেন চাষিরা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় আপাতত রাতের ঘুম উড়েছে তাঁদের। ভারী বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রজনীগন্ধা এবং গোলাপ চাষ। 

Advertisement

চলতি বছর গ্রীষ্মে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়েছে। তবে দিন দশেক আগে থেকে শুরু হয়েছে অবিরাম বৃষ্টি। রোদের দেখা তো নেই-ই, তার ওপর গত দুইদিন ধরে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গল বড় দিনভর কখনও ঝিরিঝিরি তো কখনও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলার অধিকাংশ জায়গাতেই পরিস্থিতি বেশ সঙ্গিন। এর জেরেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ফুল চাষে। রানাঘাট ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশের মানুষ ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে নোকাড়ি, পুরাতন চাপড়া, ধানতলা এবং গাংনাপুরের একাংশ। এছাড়াও রয়েছে রানাঘাট ১ ব্লকের তারাপুর, কায়েতপাড়া, পায়রাডাঙ্গা। মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টি না থামায় মাথায় হাত পড়েছে এই সব এলাকার ফুল চাষিদের। বেশ কয়েক হাজার মানুষ এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ফুল চাষের ক্ষয়ক্ষতি সামগ্রিকভাবে বিরাট এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। 
  কি বলছেন চাষিরা? তাঁদের দাবি, মূলত এই এলাকাগুলিতে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপের মত নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের ফুল চাষ হয়। এরই মধ্যে এই সময়টা মূলত রজনীগন্ধা চাষের উপরেই রুটি রুজি নির্ভর করে মানুষের। অথচ বৃষ্টির কারণে সব কুঁড়ি ফুটে যাচ্ছে রজনীগন্ধার। আর ফুটে যাওয়া রজনীগন্ধার বাজারে কোনও দাম নেই। ফলে বিঘের পর বিঘে জমিতেই পড়ে থাকছে ফোটা রজনীগন্ধা। গোলাপ চাষেও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠ থেকে ফুল তুলে আনা যাচ্ছে না। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাঁদা ফুলের চাষ। বৃষ্টিতে গাছ ভারী হয়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। জমিতেই নষ্ট হচ্ছে ফুল। ফুল চাষিদের কথায়, প্রচুর বৃষ্টির কারণে এক একটি গাঁদা ফুলের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে জল জমে যায়। দ্রুত পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ভিজে ফুল বিক্রি হয় না। রোদ না ওঠায় মাঠ থেকে ফুল তুলে তা শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করাও এককথায় অসম্ভব। রানাঘাট ২ ব্লকের অন্তর্গত পুরাতন চাপড়া এলাকার ফুল চাষী অশোক মন্ডল বলেন, প্রায় দশ বিঘা জমিতে আমি রজনীগন্ধা করেছিলাম। বৃষ্টিতে প্রতিটা ফুল ফুটে যাচ্ছে। এই ফুল বিক্রি হবে না বলে তুলতে পারছি না। কত খরচ হয় এক বিঘে জমিতে রজনীগন্ধা চাষ করতে? ফুল চাষি জগন্নাথ বিশ্বাস বলেন, এক বিঘে জমিতে রজনীগন্ধা চাষ করতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। গাঁদা ফুল সিজন হিসেবে হয়। বিঘে প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ। গোলাপের ক্ষেত্রে দাম অনেক বেশি। চারা কিনতে কিনতে হয় গোলাপের। কুড়ি টাকা পিস ধরলে, মোটামুটি এক বিঘা জমিতে আশি হাজার টাকা লাগবে। ফলে অতি বৃষ্টিতে প্রচুর টাকার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। চাষিরা আরও বলেন, এই বৃষ্টির পর যখন হঠাৎ রোদ উঠবে তখন ছত্রাকের সমস্যা দেখা দেবে। প্রসঙ্গত, বৃষ্টির মরশুমে বাজারে গোলাপ এখন প্রতি ১০০ পিসের দাম ৪০০ টাকা। অন্যসময় ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি একশোর দাম থাকে। গাঁদা এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ৪০০ টাকার কাছাকাছি কুড়ির কেজি। এমনই ফোটা ফুলের দর কেজি প্রতি ২৫০ টাকা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ