পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: পয়লা ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার প্রক্রিয়া। কৃষকদের সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রিতে উৎসাহিত করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। এক ধাক্কায় উৎসাহ ভাতা ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একেবারে ২০০ টাকা করা হয়েছে। গত মরশুমে এক কুইন্টাল ধানের সহায়ক মূল্য ছিল ২ হাজার ৩৬৯ টাকা, তার সঙ্গে ২০ টাকা উৎসাহ ভাতা পেতেন কৃষকরা। চলতি মরশুমে ধানের সহায়ক মূল্য ধার্য করা হয়েছে ২ হাজার ৪৪১ টাকা। এর সঙ্গে ২০০ টাকা উৎসাহ ভাতা যুক্ত হয়ে কৃষকরা কুইন্টাল প্রতি মোট ২ হাজার ৬৪১ টাকা পাবেন। প্রশাসন জানিয়েছে, একজন কৃষক এবার সর্বাধিক ৪৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন।
আসন্ন ধান কেনার মরশুমের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) বুলবুল বাকচির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ওই বৈঠকে ধান কেনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জেলা খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর বীরভূম জেলার ১৯টি ব্লকে মোট ১৯টি সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্র (সিপিসি) থাকছে। এর পাশাপাশি জেলার ১১২টি সমবায় সমিতিও কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি সহায়ক মূল্যে ধান কিনবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য ইতিমধ্যেই জেলার ২৫টি রাইস মিলের সঙ্গে খাদ্যদপ্তরের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। গত মরশুমে বীরভূমে ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কেনা সম্ভব হয় ২ লক্ষ ৬১ হাজার মেট্রিক টন। চলতি বছরে এখনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির না হলেও রেশন ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তনের কারণে তা অনেকটাই বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান।
সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ফড়ে বা দালালদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবার আটঘাট বেঁধে নামছে প্রশাসন। অনেক সময় ফড়েরা ভুয়ো চাষি সেজে ধান বিক্রি করে সরকারি সুবিধা লুটে নেয়। এই জালিয়াতি রুখতে আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলার খাদ্য নিয়ামক অভিজিৎ বেজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধান বিক্রি করতে হলে চাষিকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। মেশিনে নিজের আঙুলের ছাপ মেলার পরেই ধান বিক্রি করা যাবে। একজনের বদলে অন্য কেউ এসে ধান দিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকছে না। খাদ্যদপ্তর জানিয়েছে, গত বছর যাঁরা ধান বিক্রি করেছিলেন, তাঁদের নতুন করে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই, কেবল স্লট বুকিং করলেই হবে। তবে নতুনদের ক্ষেত্রে পিএম কিষান বা ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি’ (পূর্বতন কৃষক বন্ধু) প্রকল্পে নাম থাকলে তবেই রেজিস্ট্রেশন করে ধান বিক্রি করা যাবে। কড়া প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি চাষিদের দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগ মেটাতেও তৎপর হয়েছে প্রশাসন। বিগত বছরগুলিতে ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ধানের সঙ্গে ওজনে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে সাত কেজি বাটা নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ তুলেছিলেন কৃষকরা। এই সমস্যার সমাধানে এবার ‘থ্রি মেনস কমিটি’ গঠন করেছে জেলা খাদ্যদপ্তর। এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও, ব্লক কৃষি আধিকারিক এবং রাইস মিলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। খাদ্য নিয়ামকের আশ্বাস, কৃষকদের এ জাতীয় কোনো অভিযোগ থাকলে তা কমিটিকে জানাতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



