Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইনভার্টার দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার চলছে জলঢাকায়, বিলুপ্ত বহু প্রজাতি  

ইনভার্টার দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার চলছে জলঢাকায়, বিলুপ্ত বহু প্রজাতি  
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: নাগরাকাটার জলঢাকা নদীতে প্রতিদিন ব্যাটারি চালিত ইনভার্টারের সাহায্যে অবৈধভাবে মাছ ধরা চলছে। এতে যেমন নদীর বহু মাছ বিলুপ্তির পথে, তেমনই ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃত জেলেদেরও। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবেশ প্রেমীরা। ডুয়ার্সে তিস্তার পর এই জলঢাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ না হলে বহু প্রজাতির মাছের হয়তো আর অস্তিত্ব থাকবে না। যদিও মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।এই ব্যাপারে মৎস্য সমবায় সমিতির নাগরাকাটা ব্লক কমিটির সম্পাদক কবিউল ইসলাম বলেন, ইনভার্টারের ব্যাটারি থেকে কারেন্ট নিয়ে যারা মাছ ধরছেন, তারা একদিনে কুড়ি থেকে পঁচিশ কেজি মাছ ধরে। এর ফলে প্রকৃত  জেলেরা জলঢাকা নদীতে গিয়ে মাছ পান না। কারণ আমরা দিনের বেলায় মাছ ধরতে যাই। ওরা রাতেই বেশিরভাগ মাছ ধরে ফেলে। আমাদের ভাগ্যে পাঁচশ গ্রাম থেকে এক কেজির ওপর জোটে না। তাই আমরা চাই এভাবে এরা মাছের বংশ ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটা বন্ধ হোক। নাগরাকাটা ব্লক মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক নুর ইসলাম বলেন, এর আগে আমরা গ্রামবাসীদের নিয়ে বহুবার প্রচার করেছি, যে বিদ্যুত্ ব্যবহার করে মাছ ধরা যাবে না। সেসময় কয়েকজনকে ধরেও ছিলাম। তারপর এভাবে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু শুনেছি আবার অবৈধভাবে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। এরপর এদের ধরে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেল ও জরিমানা দুটোই হবে। জলঢাকা নদীর এই মিষ্টি জলে একসময় প্রায় ১০০কেজি ওজনের বাঘারি মাছ পাওয়া যেত। এমনকি মহাশৈল মাছও প্রায় ১২ থেকে ১৫ কেজি ওজনের পাওয়া যেত। কিন্তু এখন অবৈধভাবে মাছ ধরার ফলে ছোট ছোট শিশু মাছ  মারা যাচ্ছে। বড় হওয়ার সুযোগও পাচ্ছে না। তার আগেই ধরা পড়ে যাচ্ছে। তবে এখনও জলঢাকায় রুই, কাতলা, খোকসা, বোরলি, মহাশৈল, বাটা, বাঘারি, চেপ্টি, চিংড়ি, পাবদা সহ বিভিন্ন নদিয়ালী সুস্বাদু মাছ পাওয়া যায়। অবৈধ মাথায় শিকার বন্ধ না হলে অনেক সুস্বাদু মাছ এই নদী থেকে হারিয়ে যাবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ