নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরে ঘিরে গোটা রাজ্যের মানুষ উন্মাদনায় মাতোয়ারা। পিছিয়ে নেই খড়্গপুর শহরও। বুধবার খড়্গপুর শহরের কৌশল্যা এলাকায় জগন্নাথ মন্দির কমিটির উদ্যোগে জলসত্র কর্মসূচি পালন করা হল। এই কর্মসূচিতে পথ চলতি মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মিষ্টি, লস্যি বিতরণ করা হয়। জানা গিয়েছে, প্রায় দু’হাজার মানুষকে মিষ্টি মুখ করান কমিটির সদস্যরা। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে দীঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শনের আহ্বান জানানো হয়। মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, দীঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি হওয়ায় উন্মাদনায় ভাসছে খড়গপুর শহরের মানুষ। তবে অনেকেই দীঘায় যেতে পারেননি। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই কর্মসূচি পালন করা হল। শহরের বিভিন্ন এলাকায় এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের কর্মসূচি দেখানো হয়। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ। তিনি পথচলতি মানুষকে মিষ্টিমুখ করান। নির্মলবাবু বলেন, জগন্নাথ মন্দির ঘিরে ভালোই উন্মাদনা রয়েছে। প্রচুর মানুষ মন্দির দর্শন করবেন বলে জানাচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষের জন্য মিষ্টি বিতরণ করা হল। সকলকে মন্দির দর্শন করতে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথা রাখলেন।
এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আশা দোলই বলেন, ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দিনটা বাংলার মানুষের কাছে গর্বের। প্রসঙ্গত, সকলকে ওড়িশার পুরী যেতে হতো জগন্নাথ মন্দির দর্শনের জন্য। এখান থেকে পুরীর দূরত্ব বেশি হওয়ায় ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই যেতে পারতেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দীঘায় জগন্নাথ মন্দির হওয়ায় খুশি রাজ্যবাসী। জানা গিয়েছে, জগন্নাথ মন্দির কমিটির সদস্যরা মন্দির উদ্বোধনের এক মাস আগে থেকেই নানা কর্মসূচি পরিকল্পনা করছেন। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা মানুষের জন্য মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা করেছেন। এই কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন খড়্গপুর এলাকার বিশিষ্টরা। সারা বছর ধরেই তাঁরা নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এছাড়া তাঁদের উদ্যোগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। কমিটির সদস্য জয়ন্ত দত্ত ও বিশ্বজিৎ মাইতি বলেন, সকলের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ করা সম্ভব ছিল না। এই কর্মসূচিতে মহিলারা বিশেষভাবে সাহায্য করেছেন। সারা বছর ধরে বিভিন্ন জনমুখী কাজেও এগিয়ে থাকে কমিটির সদস্যরা। তাঁদের উদ্যোগে প্রতি বছর বস্ত্রদান সহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া মানুষের কথা মাথায় রেখে একাধিক রক্তদান শিবিরও করে থাকেন কমিটির সদস্যরা। এমনকী করোনা মহমারীর সময়ও তাঁরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কমিটির সদস্য রঞ্জু ভট্টাচার্য ও শক্তি সিং বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মূল কর্তব্য। এই কমিটির সদস্যরা সারা বছর ধরেই বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।