নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও আরামবাগ এবং সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে ব্যাপক উন্মাদনা চোখে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় বিশেষ পুজোপাঠ, মন্দির উদ্বোধনের সরাসরি সম্প্রচার ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এদিন দুপুরে জেলা প্রশাসনের তরফে বাঁকুড়া রবীন্দ্র ভবনে জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সরাসরি সম্প্রচার জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনসূয়া রায়, জেলাশাসক সিয়াদ এন, বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেন মজুমদার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন রবীন্দ্র ভবনে সমবেত হয়। দর্শক আসনে থাকা জয়তী কুম্ভকার, কল্পনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, দীঘায় মন্দির উদ্বোধন দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ফলে রবীন্দ্র ভবনে এসে সকলে একসঙ্গে জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রভু জগন্নাথকে দর্শন করেছি। অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর পুরসভার উদ্যোগে দীঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠার দৃশ্য সরাসরি জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়। বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ, পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী ছাড়াও পুরসভার বিভিন্ন কাউন্সিলাররা উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান বলেন দীঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দিরের উদ্বোধন পর্ব যাতে বিষ্ণুপুরের সাধারণ মানুষ সরাসরি দেখতে পান তাঁর জন্য জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়। দীঘা থেকে জগন্নাথ দেবের প্রসাদ এনে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি শুভাশিস বটব্যালের উদ্যোগে জয়পুরে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে জগন্নাথ দেবের বিশেষ পুজো হয়। শুভাশিসবাবু নিজে পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেন। তিনি বলেন, দীঘার বুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কালজয়ী মন্দির সৃষ্টি করে গেলেন তার মধ্যেই তিনি যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন। সমস্ত মানুষের কল্যাণ কামনায় আচার মেনে এদিন আমরা জয়পুরে জগন্নাথ দেবের পুজো করেছি। দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন সরাসরি দেখাতে আরামবাগ মহকুমাতেও ব্যবস্থা করা হয়। এদিন আরামবাগ শহরের গৌরহাটি মোড়ে পুরসভার উদ্যোগে এলইডি স্ক্রিনে লাইভ অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী। নেতাজি স্কোয়ারে আরামবাগ শহর তৃণমূলের উদ্যোগেও ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে ছিলেন দলের শহর সভাপতি প্রদীও সিংহ রায় সহ অন্যান্যরা। সেখানে পথচলতি মানুষকে পায়েস বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, মহকুমার অন্যান্য ব্লকেও জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের লাইভ অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা হয়। আরামবাগের গড়বাড়িতে বিশেষ পুজো ও হোমযজ্ঞ করেন দলের যুব সভাপতি পলাশ রায়। সেখানেও ঘট তুলে প্রায় ৩০ কেজি বেল কাঠের যজ্ঞ করেন তিনি। পথচলতি মানুষ ও দলীয় কর্মীদের প্রসাদ দেওয়ার হয়েছে। এছাড়া জগন্নাথদেবের মন্দিরের ছবি দেওয়া ক্যালেন্ডারও তুলে দেওয়া হয়। এদিন পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের ন’ পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২টি সংসদের প্রতিটি পরিবারকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। ন’ পাড়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তা করা হয়েছে। পুরুলিয়ার পাড়ায় পঞ্চায়েতে সমিতির সভাপতি খোল বাজিয়ে শোভাযাত্রা করেন। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় পুজোর আয়োজন করা হয়। জায়ান্ট স্ক্রিনে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন লাইভ দেখানো হয়।



