সংবাদদাতা, হলদিয়া: বৃহস্পতিবার সাড়ম্বরে মহিষাদল ও হলদিয়া বিধানসভা এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা রাস্তার কাজের উদ্বোধন হয়েছে। প্রায় ২৮কোটি টাকা খরচে হলদি, রূপনারায়ণ ও হুগলি নদীর পাড় বরাবর প্রায় ৩৮কিমি ‘রিভার সাইড রোড’ নতুন করে গড়ছে রাজ্য সরকার। হলদি নদীর তীরে বালুঘাটা-নরঘাট পর্যন্ত ১৭.৭কিমি রাস্তার জন্য প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ওই রাস্তাটি মহিষাদলের কেশবপুর-জালপাই ছুঁয়ে নরঘাট পৌঁছবে। এছাড়া, হুগলি নদী ও রূপনারায়ণের পাড় বরাবর কুঁকড়াহাটি থেকে দনিপুর পর্যন্ত প্রায় ২১কিমি রাস্তা দু’টি পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে। কুঁকড়াহাটি থেকে গেঁওখালি ত্রিবেণী সঙ্গম অবধি ৭.৭কিমি রাস্তার জন্য খরচ হবে ৫কোটি ৩০লক্ষ টাকা। গেঁওখালি থেকে দনিপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩.৫ কিমি রাস্তার জন্য নয় কোটি টাকা খরচ হবে।
নদীতীরের ওই তিনটি রাস্তা আরও চওড়া এবং ঝাঁ চকচকে করা হচ্ছে। ২০২৬সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রসারে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জনপ্রতিনিধি ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা মনে করছেন। এদিন তিনটি রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক। তিনটি অনুষ্ঠানে মহিষাদলের বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী, হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল, মহিষাদলের বিডিও বরুণাশিস সরকার, হলদিয়ার বিডিও সৌরভ মাজি, জেলা পরিষদ সদস্য ও দুই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং কর্মাধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।বালুঘাটা-নরঘাট সড়কের কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেশবপুর জালপাইয়ের ইটামগরা বাঁধে হয়েছে। গেঁওখালি-দনিপুর রাস্তার কাজের উদ্বোধন হয়েছে মহিষাদলের বাঁকা লকগেটের কাছে। সন্ধেয় তেঁতুলবেড়িয়া হনুমান মন্দিরের কাছে গেঁওখালি-কুঁকড়াহাটি রাস্তার কাজের উদ্বোধন হয়।
পিএমজিএসওয়াই-৩ প্রকল্পে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভলপমেন্ট এজেন্সির বরাদ্দে এই কাজ হবে। জেলা সভাধিপতি বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে এবছর প্রায় ৩০০কোটি টাকা খরচে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন শুরু হয়েছে।
এসমস্ত রাস্তায় ভারী ও ওভারলোডেড গাড়ি যাতে চলাচল না করে সেই বিষয়টি দেখার জন্য জেলা সভাধিপতি এদিন স্থানীয়দের কাছে আবেদন জানান। এধরনের ঘটনা ঘটলে ব্লক প্রশাসনকে খবর দিতে বলেন। উমপুন ও যশ সাইক্লোন এবং জলোচ্ছ্বাসে এসমস্ত রাস্তা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মহিষাদল ব্লকে হলদির জলোচ্ছ্বাসে কেশবপুর-জালপাই এলাকায় রাস্তা উধাও হয়ে গিয়েছিল বলে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তরুণ মণ্ডল জানান। তিনি বলেন, ভালো মানের রাস্তা তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই দাবি তুলেছেন নাটশালের পঞ্চায়েত প্রধান শিবপ্রসাদ বেরা। মহিষাদলের বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী বলেন, এসমস্ত রাস্তার পাশে ঘন জনবসতি আছে। ফলে কয়েকলক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। গেঁওখালি, নাটশাল ঘিরে পর্যটন বিকাশে মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতি ও সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত উদ্যোগী হচ্ছে। তাতেও সুবিধা হবে। দুই ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এসমস্ত রাস্তায় ১৬টনের বেশি ভারী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ হবে। রাস্তায় হাইট ব্যারিয়ার লাগানো হবে।-নিজস্ব চিত্র