নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি নওদা। একদা কংগ্রেসের মজবুত সংগঠনে ক্ষয় ধরিয়ে তৃণমূল লাগাতার এখানে ভোটব্যাঙ্ক বাড়িয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক মার্জিনে জিতেছিল তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজ খানের জয়ের ব্যবধান ছিল ৭৪ হাজারের বেশি। তৃণমূল পেয়েছিল ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৮৪টি ভোট। অর্থাৎ মোট ভোটের প্রায় ৫৮.৫ শতাংশ পেয়েছিলেন তৃণমূলের এই মহিলা প্রার্থী। অপরদিকে বিজেপি এই আসনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। বিজেপি প্রার্থী অনুপম মণ্ডল পান ৪৩ হাজার ৫৩১ ভোট। কংগ্রেসের হয়ে মোশারফ হোসেন লড়াই করে পেয়েছিলেন ৩১ হাজার ৫৮৮ ভোট। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় মার্জিন অনেকটাই কমে তৃণমূলের। বহরমপুর লোকসভার মধ্যে পড়ে নওদা বিধানসভা। এখানে গত নির্বাচনে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠান অধীর চৌধুরীর তুলনায় ১৯ হাজার ৯১৬ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। এবারও বিদায়ী বিধায়ক শাহিনা মমতাজ খানকে এখানে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। তবে দলের প্রার্থীকে জেতানোর চাবকাঠি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান শেটের হাতে। তিনি মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে। পেশায় শিক্ষক সফিউজ্জামান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষও। গত বিধানসভা নির্বাচন থেকে পঞ্চায়েত, এমনকি গত লোকসভা নির্বাচনেও দাপটের সঙ্গে ভোট করে বড় মার্জিনে জয় এনে দিয়েছেন তাঁর দলকে। এহেন সফিউজ্জমানের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে বিধায়কের বেশ দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দলের ব্লক সভাপতি এখনও প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামেননি। তাঁর ভূমিকা এই নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। কয়েক মাস আগে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগদান করে একদা তৃণমূলের জেলা পরিষদ সভাধিপতি মোশারফ হোসেন ওরফে মধু। ফলে কংগ্রেস আরও কিছুটা শক্তি হারিয়েছে। তিনি অবশ্য বিদায়ী বিধায়কের হয়ে প্রচার শুরু করেছেন।



