Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুবরাজপুরের কবিরাজ পরিবারে মা পূজিত হন দেবী চামুণ্ডা রূপে

বীরভূমের দুবরাজপুরের কবিরাজ পরিবারে মা পূজিত হন দেবী চামুণ্ডা রূপে। অষ্টমীর দিন ছাগ বলি দেওয়া হয়। কবিরাজ পরিবারে চামুণ্ডা মায়ের মন্দিরে বলিদান হওয়ার পরই দুবরাজপুরের বিভিন্ন পুজোয় বলিদান করা হয়।

দুবরাজপুরের কবিরাজ পরিবারে মা পূজিত হন দেবী চামুণ্ডা রূপে
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমের দুবরাজপুরের কবিরাজ পরিবারে মা পূজিত হন দেবী চামুণ্ডা রূপে। অষ্টমীর দিন ছাগ বলি দেওয়া হয়। কবিরাজ পরিবারে চামুণ্ডা মায়ের মন্দিরে বলিদান হওয়ার পরই দুবরাজপুরের বিভিন্ন পুজোয় বলিদান করা হয়। এই রীতিই চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। কবিরাজ পরিবারের দুর্গাপুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের বেশি পুরনো। পরিবারের দাবি, দুবরাজপুরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন পুজো এটিই। তবে, এখানে মাটির প্রতিমায় পুজো হয় না। পটে দেবীর মুখের ছবি আঁকা থাকে। তার সামনে রাখা হয় চামুণ্ডা মায়ের অষ্টধাতুর মূর্তি। সেই মূর্তির সঙ্গে ঘট রেখে দেবীর পুজো হয়।

Advertisement

পরিবারের সদস্য তথা চামুণ্ডা মায়ের অন্যতম সেবাইত মলয় কবিরাজ বলেন, সপ্তমীর সকালে একেবারে নির্ঘণ্ট মেনে নবপত্রিকা স্নান হয়। স্নানযাত্রায় শামিল হন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন সহ অনেকেই। তারপর পুজো শুরু। সপ্তমী থেকে দশমী, পুজো উপলক্ষ্যে চারদিন ধরেই নানা আয়োজন থাকে। পুজোর প্রত্যেকদিনই মায়ের জন্য হরেকরকম ভোগের আয়োজন থাকে। সপ্তমীতে ১৬ রকম ভাজা, অষ্টমীতে লুচি-মিষ্টি, নবমীতে চিঁড়ের ভোগ এবং দশমীতে বাসি মাংস ও পান্তা ভাত মায়ের কাছে নিবেদন করা হয়। তা খেয়েই মা কৈলাসে ফিরে যান। পরিবারের সদস্য দেবীদাস কবিরাজ বলেন, মা চামুণ্ডার পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল অষ্টমীর দিন সন্ধিপুজোর সময় মায়ের তিনটি ঘটের উপর তিনটি পদ্মফুল রাখা হয়। সন্ধিপুজো শেষ হওয়ার আগেই ঘট থেকে ফুল পড়ে যায়। তখনই বুঝি, বলিদানের বিশেষ মুহূর্ত এসে উপস্থিত। তখনই আমরা বলিদানের প্রস্তুতি শুরু করি। তার আগে আমরা বলির জন্য ব্যবহৃত দা-এ হাত দিই না। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, কবিরাজ পরিবারে বলিদান হলে তবেই দুবরাজপুরের অন্যান্য পুজোয় বলিদান হয়। পরিবারের সদস্য মলয়বাবু বলেন, এখন তো মোবাইলের চল হয়েছে। মোবাইলের মারফত অন্যান্য পুজো উদ্যোক্তারা খবর পেয়ে যান। তবে, মোবাইলের যুগের আগে দুবরাজপুরের অন্যান্য পুজো উদ্যোক্তারা আমাদের বাড়িতে লোক পাঠাতেন। তাঁরা সেই খবর নিয়ে গেলে তবেই বলি হতো। তবে অষ্টমীর দিন বলিদান হলেও ওইদিন মায়ের কাছে মাংস ভোগ নিবেদন করা হয় না। সেই মাংস ভেজে তুলে রাখা হয়। দশমীর দিন সেই বাসি মাংস রান্না করা হয় পেঁয়াজ রসুন ছাড়াই। তারপর পান্তাভাত সহযোগে মায়ের কাছে তা নিবেদন করা হয়। ওই খেয়েই মা মর্ত্য ছাড়েন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ