Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাগচী বাড়িতে ৪০০ ভরি সোনায় সাজতেন মা, থাকত পুলিশ পাহারা! যমশেরপুরে জৌলুস গেলেও নিষ্ঠায় অবিচল

আলোর ঝলকানি নেই, নেই থিমের চাকচিক্যও। তবুও পুজোর চার দিন যমশেরপুরের বাগচী বাড়ির ঠাকুরদালানে ভিড় উপচে পড়ে।

বাগচী বাড়িতে ৪০০ ভরি সোনায় সাজতেন মা, থাকত পুলিশ পাহারা! যমশেরপুরে জৌলুস গেলেও নিষ্ঠায় অবিচল
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরভ ভট্টাচার্য, করিমপুর: আলোর ঝলকানি নেই, নেই থিমের চাকচিক্যও। তবুও পুজোর চার দিন যমশেরপুরের বাগচী বাড়ির ঠাকুরদালানে ভিড় উপচে পড়ে। প্রায় তিনশো বছরের পুরানো এই পুজো ঘিরে করিমপুরের মানুষের আবেগ আজও অটুট। একসময় প্রায় চারশো ভরি সোনার গয়নায় মাকে সাজানো হত। ডাকাতির আশঙ্কায় পুজোর সময় বাড়িতে পুলিশ পাহারাও থাকত। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ঢাকা থেকে সৃষ্টিধর বাগচীর পূর্বপুরুষ প্রথমে সুন্দলপুরে শ্বশুরবাড়ি এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। পরে তাঁরা চলে যান পাশের যমশেরপুর গ্রামে। প্রায় তিনশো বছর আগে বর্তমান মন্দিরের সামনের জায়গায় মাটির চালাঘরে বাগচী পরিবারের দুর্গা আরাধনার শুরু। পরবর্তীতে তৈরি হয় বর্তমান ঠাকুরদালান। সেই ঐতিহ্য মেনেই আজও পুজো হয়ে আসছে। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতিমা নির্মাণের রীতি। রথের দিন থেকেই প্রতিমায় মাটি দেওয়া শুরু হয়।  বৈষ্ণব মতে পুজো হলেও রয়েছে কুমড়ো বলির প্রথা। প্রবীণদের স্মৃতিতে, একসময় পুজোর চার দিন গোটা গ্রামের মানুষকে বাগচী বাড়িতে বসিয়ে পাত পেড়ে খাওয়ানো হত। ঠাকুরদালানে নাটক মঞ্চস্থ করার রীতিও ছিল। স্থানীয়দের দাবি, ব্রতীন্দ্রনারায়ণ বাগচী, রনেন্দ্রনারায়ণ বাগচী, অজিত চৌধুরী ও মৈত্রী বাগচী সেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা পীযূষ পোদ্দার জানান, একসময় প্রায় চারশো ভরি সোনার গয়নায় মাকে সাজানো হত। ডাকাতির আশঙ্কায় পুজোর সময় বাড়িতে পুলিশ পাহারাও থাকত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই জৌলুস অনেকটাই হারিয়েছে।  বাগচী বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাহিত্যের স্মৃতিও। স্থানীয়দের দাবি, কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী এই বাড়িতে বসেই লিখেছিলেন—‘বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই’ কবিতাটি। সেই স্মৃতির টানেও পুজোর দিনগুলিতে বহু মানুষ এই বাড়ি আসেন। বর্তমানে পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বাড়িতে থাকেন না। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা উত্তরসূরিদের অনেকে পুজোর সময় ফিরে আসেন যমশেরপুরের বাড়িতে। জাঁকজমক কমলেও নিষ্ঠা, ভক্তিতে ভাটা পড়েনি।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ