সংবাদদাতা, বারুইপুর: কোথাও বন্ধ হতে বসেছে উচ্চ মাধ্যমিকের বাণিজ্য বিভাগ! কোনও কোনও স্কুলে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, এরপর বিজ্ঞান বিভাগ চালানো যাবে তো! বৃহস্পতিবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তারপর দক্ষিণ ২৪ পরগনার একের পর এক স্কুলে এমনই সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, এক বা একাধিক শিক্ষকের চাকরি নেই আজ থেকে। সেই সঙ্গে হাজার হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কুলতলির জামতলা ভগবানচন্দ্র হাইস্কুলে ১১জন শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে। এঁদের অধিকাংশই বিজ্ঞান বিভাগের। স্কুলে পরীক্ষা নিতে এসে কোর্টের রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁরা। প্রধান শিক্ষক শান্তনু ঘোষাল বলেন, ‘২০১৬ সালেই আমাদের স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছিল। তখন খুব সমস্যায় পড়েছিলাম শিক্ষক নিয়ে। ২০১৯ সালে ছ’জন শিক্ষক যোগদান করায় বিজ্ঞান বিভাগে বেড়েছিল ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। আশপাশের কোনও স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ নেই। এই বিভাগেরই ছ’জন শিক্ষকের চাকরি চলে গেল। এবার কী করে ক্লাস হবে, জানি না।’ কমবেশি একই অবস্থা বারুইপুর হাইস্কুলে। সেখানে চারজন শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন বাণিজ্য বিভাগের। প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিত সেনাপতির বক্তব্য, ‘বিভাগটি এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল।’ বারুইপুরের সীতাকুণ্ডু বিদ্যায়তনের ছ’জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন বায়োলজির শিক্ষিকা দেবশ্রী সিনহা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলের শিক্ষক। দু’জনেরই চাকরি চলে গিয়েছে। বাড়িতে সাত মাসের শিশু। কী করব জানি না!’
বারুইপুরের রাসমণি বালিকা বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষিকার চাকরি চলে যাওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগ চালাতে সমস্যা হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। ভাঙড়ের বিভিন্ন স্কুল মিলিয়ে প্রায় ৭০ জন শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে বলে খবর। একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে চলেছে সোনারপুরের কোদালিয়া প্রসন্ন বঙ্গ হাইস্কুল, রাজনগর বিশ্বম্ভর হাইস্কুল, সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির সহ একাধিক স্কুলে। নিজস্ব চিত্র