Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়ির সংযোজিত ওয়ার্ডে ‘রবিনহুড’ তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন, চ্যালেঞ্জের মুখে পদ্ম

এনজেপি মেইন রোড। গোটা রাস্তা সেজেছে জোড়াফুল, কাস্তে-হাতুড়ি-তারা ও পদ্মের ঝান্ডায়। কিছু দোকান ও বাড়ির বাইরের দেওয়ালে ফুটেছে জোড়াফুল ও পদ্ম।

শিলিগুড়ির সংযোজিত ওয়ার্ডে ‘রবিনহুড’ তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন, চ্যালেঞ্জের মুখে পদ্ম
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এনজেপি মেইন রোড। গোটা রাস্তা সেজেছে জোড়াফুল, কাস্তে-হাতুড়ি-তারা ও পদ্মের ঝান্ডায়। কিছু দোকান ও বাড়ির বাইরের দেওয়ালে ফুটেছে জোড়াফুল ও পদ্ম।

Advertisement

এনজেপি স্টেশনে ঢোকার মুখেই একটি চা ও পানের দোকানের আড্ডার ঠেক বসেছে। প্রত্যেকেই জনতাপাড়ার যুবক। কেউ গাড়ি চালক, কেউ পর্যটন ব্যবসার এজেন্ট, অনেকে ছোট ব্যবসায়ী। তাঁদের আলোচনার বিষয় বাংলার গদি কে দখল করবে? ভোটের স্থানীয় হাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করতেই দু’জন বললেন, বিজেপি প্রার্থী পরীক্ষিত। তবে, এবার এখানে এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মা। তিনি কাজের লোক, কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত।
শুধু শিলিগুড়ি শহরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনতাপাড়া নয়, দশরথ পল্লি, ভানুনগর, আশিঘর, ঘোগোমালি, দুর্গানগর, শাস্ত্রীনগর, ভক্তিনগর চেকপোস্ট প্রভৃতি এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া মিলেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির একাংশ বস্তি এলাকা হিসাবেই চিহ্নিত। যার মধ্যে কিছু বস্তি রেলের জমিতে, আবার কিছু মহানন্দা, জোড়াপানি নদীর পাড়ে। দশরথ পল্লির কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ফি বছর বর্ষার মরশুমে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেই সময় এখানে দেখা যায়নি বিজেপির বিধায়ককে। সেই সব দুর্দিনে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
দশরথ পল্লি থেকে কিছুটা এগলেই ভানুনগর। রাস্তার ধারে ছোটো বাজার। বেশকিছু আবাসন। বেসরকারি স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে ভোট প্রচারের উত্তাপ জমজমাট। তৃণমূল প্রার্থীর ব্যানার লাগানো টোটো মাইকে প্রচার করতে করতে এলাকার চক্কর কাটছে। এখানেই একটি মিষ্টির দোকানে কেনাকাটার ফাঁকে এক মহিলা বলেন, তৃণমূল প্রার্থী লড়াকু নেতা। উচিত কথা বলতে তিনি কাউকে ছাড়েন না। অধিকার আদায়ের জন্যও লড়াই চালিয়ে যান। পুরসভার মাসিক অধিবেশনে তাঁকে মাঝেমধ্যেই গলা ফাটাতে শোনা যেত। তাই এই প্রার্থীর দিকেই হাওয়া বইছে।
সেভক রোড থেকে ইসকন মন্দির রোড ধরে কিছুটা গেলেই দুর্গানগর। এখানে সবজি বিক্রেতা শম্ভু দাস ও টোটোচালক কেশব যাদব দু’জনই বলেন, পুর নির্বাচনে কোনোদিন হারেননি তৃণমূল প্রার্থী। তিনি এলাকায় ‘রবিনহুড’ হিসাবে পরিচিত। কয়েকদিন আগে এখানে সভা করতে এসেছিলেন। সহজেই সকলের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন।
নাগরিকদের এমন আবেগ বুঝতে পেরেই শিলিগুড়ি শহরের ১৪টি সংযোজিত ওয়ার্ডে প্রচারে জোর দিয়েছে তৃণমূল। তাদের দখলেই সবক’টি ওয়ার্ড। শিলিগুড়ি পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ সদস্য দুলাল দত্ত বলেন, ডাবগ্রাম-১ ও ২, ফুলবাড়ি-১ ও ২ এই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং শিলিগুড়ি শহরের ৩১ থেকে ৪৪-এই ১৪টি সংযোজিত ওয়ার্ড নিয়েই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। সংযোজিত ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮ ও ৩৯ নম্বর বাদ দিয়ে সবকটিতেই বস্তি রয়েছে। এখানকার লিডেই কুপোকাত হবে পদ্ম শিবির। এজন্য গ্রুপ মিটিং, পাড়া বৈঠক, ছোটো সভা ও বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করা হচ্ছে।
বিজেপি প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, তৃণমূলকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। এবারও এখানে সহজ জয় হবে। গতবারের থেকে লিড বাড়ানোই আমার টার্গেট। • রঞ্জন শীলশর্মা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ