Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কান্দিতে বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারল পড়শিরা, অভিযুক্তরা বালি খাদানের দালাল বলে এলাকায় পরিচিত

বাড়ির টুকিটাকি কাজ চলছিল। তার জন্য দরকার পড়েছিল কয়েক বস্তা বালির।

কান্দিতে বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারল পড়শিরা, অভিযুক্তরা বালি খাদানের দালাল বলে এলাকায় পরিচিত
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: বাড়ির টুকিটাকি কাজ চলছিল। তার জন্য দরকার পড়েছিল কয়েক বস্তা বালির। কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুয়ে নদী থেকে ওই বালি আনা হচ্ছিল। এই খুচরো বালি চুরির অপরাধে প্রাণ দিতে হল প্রতিবেশীর হাতে। এলাকায় বালি খাদানের দালাল নামে পরিচিত ওই পড়শির মারধর ও চড় খেয়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধের। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কান্দি থানার রানিপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম গোলাম শেখ (৭৪)। তিনি রানিপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। যদিও ঘটনায় এখনও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি মৃতের পরিবারের তরফে। পুলিশ মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

Advertisement

ওই গ্রামের উত্তর দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে কুয়ে নদী। সরকারিভাবে নদীর রানিপুর বালি খাদানের লিজও পেয়েছেন এক ঠিকাদার। তবে প্রশাসনিকভাবে এই সময় নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এদিন ওই বৃদ্ধ ও তাঁর প্রৌঢ় ভাই আজাদ আলি শেখ কাঁধে করে নদী থেকে কয়েক বস্তা বালি বয়ে আনছিলেন। বাড়ির বারান্দা ও বাথরুমের কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। সেটি মেরামতের জন্য‌ ওই বালির দরকার পড়েছিল। ত঩বে, বালি আনার জন্য তাঁরা কোথাও অনুমতিও নেননি বলে জানা গিয়েছে। ওই বালি খাদানের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেন গোলাম শেখের এক পড়শি। অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনের ঢালাই রাস্তা দিয়ে বালি আনার সময় পথ আটকান তিনি ও তাঁর পরিবার। অভিযুক্ত পড়শির বক্তব্য ছিল, ট্যাক্স না দিলে নদী থেকে বালি আনা যাবে না। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। তারপর হাতাহাতি। মৃতের ভাই বলেন, কিছু বুঝে উঠার আগেই ওরা হাঁসুয়া বের করে। লাঠি দিয়ে  পেটাতে থাকে আমাদের। আমার চোখে আঘাত করতেই ছুটে পালিয়ে আসি। কিন্তু, দাদাকে বেধড়ক মারধর করার পর এক চড় মারে। তাতেই দাদা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মৃতের বউমা হালিজা বিবি বলেন, মারধরের সময় ছুটে গিয়ে শ্বশুরের মাথায় জল ঢালি। কিন্তু প্রাণে বাঁচাতে পারলাম না। চোখের সামনেই উনি নিথর হয়ে গেলেন।
এদিকে এই ঘটনায় গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে খবর পেয়ে পৌঁছয় কান্দি থানার পুলিশ। ততক্ষণে অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। শুধু মূল অভিযুক্তের বৃদ্ধা মা কাঁদতে কাঁদতে এসে বললেন, আমার ছেলে এক চড় মারতেই ও লুটিয়ে পড়ল। যা শুনতে পেয়ে পুলিশ তাঁকেও সরিয়ে দেয়। মৃতের ছেলে হাইজার শেখ বলেন, আমার বাবাকে যারা মেরে ফেলল, তাদের কঠোর শাস্তি চাই। বাড়ির পাশে নদী থাকলে সবাই বালি নেয়। আমরাও সেটাই করছিলাম। বারণ করার জন্য প্রশাসন রয়েছে। কিন্তু ওরা কে? ওই বালি খাদানের দালালের কঠোর শাস্তি চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ