Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গল্ফগ্রিনে এজি বেঙ্গলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মেয়েকে ১৫ দিন আগে বিয়ে, কোটি টাকার সম্পত্তির লোভে শ্বশুরকে খুন, গ্রেপ্তার জামাই

সবে ১৫ দিন হয়েছে বিয়ের। তার মধ্যেই শ্বশুরের কোটি টাকার সম্পত্তি হাতানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা জামাইয়ের।

গল্ফগ্রিনে এজি বেঙ্গলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মেয়েকে ১৫ দিন আগে বিয়ে, কোটি টাকার সম্পত্তির লোভে শ্বশুরকে খুন, গ্রেপ্তার জামাই
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবে ১৫ দিন হয়েছে বিয়ের। তার মধ্যেই শ্বশুরের কোটি টাকার সম্পত্তি হাতানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা জামাইয়ের। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই গভীর রাতে ৭৫ বয়সি বৃদ্ধকে বেধড়ক মারধর করে ওই যুবক। সকালে রহস্যজনকভাবে বাড়ির দোতলার সিঁড়ির নীচে উঠোন থেকে উদ্ধার হল বৃদ্ধের রক্তাক্ত দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার  করা হয়েছে জামাইকে।

Advertisement

শনিবার গল্ফগ্রিন থানা এলাকায় আনোয়ার শাহ রোড সংলগ্ন একটি দোতলা বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। মৃত বৃদ্ধের নাম শমীক কিশোর গুপ্ত (৭৫)। সরকারি প্রতিষ্ঠান এ জি বেঙ্গলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। গল্ফগ্রিনের কলাবাগান লেনের বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে বাবু ও মেয়ে সর্বাণীকে নিয়ে বসবাস করতেন। স্ত্রী জয়াদেবীর হাঁটু ও কোমরে বাত। তাই দোতলায় উঠতে পারেন না। একতলার ঘরেই থাকেন বৃদ্ধা। পাশের ঘরে বসবাস মানসিকভাবে অসুস্থ ছেলের। দোতলার দু’টি ঘরের একটিতে থাকতেন শমীকবাবু। অন্যটিতে, মেয়ে সর্বাণী থাকেন। প্রতিবেশীদের কথায়, ‘৩৬ বছর বয়স হয়ে গেলেও মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিলেন না প্রবীণ যুগল। জয়াদেবী বলতেন, মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে ছেলে আর আমাদের দেখবে কে?’ 
এই পরিস্থিতিতেই স্থানীয় এক যুবক শমীকবাবুর বাড়ি মেরামতির বরাত নেয়। সেই সূত্রেই গুপ্তবাড়িতে যাতায়ত শুরু করে স্থানীয় যুবক তথা মার্বেল ব্যবসায়ী সঞ্জিত দাস ওরফে পুচকে (৩০)। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় সর্বাণীর সঙ্গে। সপ্তাহ দু’য়েক আগে আচমকাই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় যুবতী। সন্ধ্যায় সঞ্জিতের সঙ্গে বিয়ে করে এসে হাজির হয় বাড়ির সামনে। প্রাথমিকভাবে সেই নিয়ে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। এরপর থেকে প্রিন্স গোলাম মহম্মদ শাহ রোডের শ্বশুরবাড়িতেই থাকছিলেন সর্বাণী। অলোক দাস নামে এক প্রতিবেশী বলেন, বিয়ের পর শুক্রবারই প্রথম বাপের বাড়িতে আসে মেয়ে-জামাই। সন্ধ্যা থেকেই দোতলায় বৃদ্ধের ঘর থেকে কথা কাটাকাটির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাড়ি লিখে দেওয়া নিয়ে জামাই-শ্বশুরের মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। রাতে আচমকাই সেই চেঁচামেচির শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, বৃদ্ধকে মারধরে করে জামাই। এরপর তাঁকে দোতলার সিঁড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে খুন করেছে এই যুবক। 
সকালে বাবাকে সিঁড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন অসুস্থ ছেলে বাবু। মাকে বিষয়টি জানান। এরপরেই জয়াদেবীর আর্তনাদ শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তাঁরাই গল্ফগ্রিন থানায় খবর দেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেছেন, রাতেই শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সঞ্জিত ও সর্বাণী। এরপরেই স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে গল্ফগ্রিন থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সূত্রের খবর,জেরায় সঞ্জিতের দাবি, শমীকবাবুর বাড়িটির দাম প্রায় কোটি টাকা। পাশাপাশি, সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মী হওয়ায় সঞ্চিত অর্থের পরিমাণও নেহাত কম নয়। বাড়িসহ গোটা সম্পত্তি হাতানোর লোভেই সর্বাণীকে বিয়ে করেছিল সে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে মৃতের মেয়ের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন তদন্তকারীরা। ডেপুটি কমিশনার (সাউথ সাবার্বান ডিভিশন) বিদিশা কলিতা বলেন, রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ