Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে অভিযুক্তের বদলে অন্যের হাজিরা আদালতে, জেল হাজতে পাঠালেন বিচারক

ঘাটালে আদালতে অভিযুক্তের বদলে হাজিরা দেন ভায়রাভাই। বিচারক সাবিরকে জেল হেফাজতে পাঠালেন। কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ? বিস্তারিত পড়ুন।

ঘাটালে অভিযুক্তের বদলে অন্যের হাজিরা আদালতে, জেল হাজতে পাঠালেন বিচারক
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: অভিযুক্তের বদলে আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন তাঁর ভায়রাভাই। বুধবার তা প্রকাশ হয়ে পড়ায় আদালত সেই ভায়রাভাইকে জেলা হাজতে পাঠাল। ঘাটাল মহকুমা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ময়ূখ মুখোপাধ্যায়ের ওই নির্দেশের পর ঘটনাটি চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সরকার পক্ষের আইনজীবী দিলীপ দাস বলেন, যাঁর জেল হাজত হয়েছে তাঁর নাম সাবির আলি ওরফে ইজরাইল। গড়বেতাতে বাড়ি। ঘটনায় এক জন আইনজীবী ও দু’জন জামিনদার জড়িত রয়েছেন। কোনো আইনজীবীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয় বলে দিলীপবাবুর মন্তব্য। 

Advertisement

দাসপুর থানার নিমতলার বাসিন্দা কর্মসূত্রে সৌদি আরব প্রবাসী ইসলাম খান একটি পকসো মামলায় (২২/২৫) মূল অভিযুক্ত। সরকারপক্ষের আইনজীবীর কথায়, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল রাস্তা ঢালাই নিয়ে বচসার জেরে ইসলাম অভিযোগকারিণী প্রতিবেশীর নাবালিকা কন্যাকে মারধর ও তার শ্লীলতাহানি করে। ওই ঘটনার পর গত বছর মে মাসে পকসো আইনের ৮ ও ১২ ধারায় মামলা রুজু হতেই সে সৌদিতে পালায়। ফেরার থাকা অবস্থায় একবার দেশে ফিরলেও আইনজীবীর পরামর্শে বিমানবন্দর থেকেই সে পুনরায় ফিরে যায়। পরে ১৮ ডিসেম্বর ইসলামের আইনজীবী বরুণ শাসমল অভিযুক্তের আত্মীয় সাবিরকে মূল অভিযুক্ত সাজিয়ে আদালতে দাঁড় করিয়ে জামিনের ব্যবস্থা করেন। সরকারপক্ষের আইনজীবী দিলীপবাবু জানান, তাঁরা আসল অপরাধীকে চিনতেন না, সেই সুযোগে বরুণবাবু আদালতের চোখে ধুলো দিয়ে সওয়াল করেন। জামিনদার হন ওই আদালতের দুই মহুরি সঞ্জয় মণ্ডল ও বিক্রম মান্না। সেদিন জালিয়াতির বিষয়টি কেউই বুঝতে পারেননি।
পরে একটি ধার্য দিনে আদালতে এসে অভিযুক্তের জামিনের কথা জেনে আকাশ থেকে পড়েন নির্যাতিতার মা। প্রতিবেশী হওয়ায় ইসলামের গতিবিধি তাঁর নখদর্পণে ছিল। দিলীপবাবু তখন লিখিতভাবে আদালতের কাছে প্রশ্ন তোলেন, মূল অভিযুক্ত বিদেশে থাকা সত্ত্বেও অন্যের উপস্থিতিতে কীভাবে জামিন মিলল? গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত দাসপুর থানার ওসিকে বিশদে তদন্তের নির্দেশ দিলে, পুলিশ ভিসা ও পাসপোর্ট দপ্তরের তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হয় যে, জামিন পাওয়ার সময় ইসলাম ভারতেই ছিল না।
বিচারকের নির্দেশে এদিন সাবির আদালতে হাজিরা দেয়। এজলাসে আইনজীবী বরুণবাবু ও সাবির উভয়েই হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেও বিচারক নীরব থাকেন। আদালত সাবিরকে জেল হেফাজতে পাঠায় এবং আইনজীবীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানোর কথা বলে। ঘাটাল আদালতের সিনিয়র আইনজীবী তপনকুমার রায় একে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা ও পেশাগত অসদাচরণ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, আধার কার্ড দেখেই ওকালতনামায় সই করানো হয়, তাই এই জালিয়াতি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তবে নিখুঁত তদন্ত করে বিষয়টি সামনে আনার জন্য তিনি আইনজীবীদের তরফে দাসপুর থানার ওসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ