নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘দিল্লি পুলিশ আদতে অমিত শাহের জেনারেল ডায়ারের ভূমিকা পালন করছে।’ শুক্রবার দিল্লিতে বাম ছাত্র, যুব সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যেভাবে টেনে হিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে আন্দোলনকারীদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ, তারই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালো ‘ককরোচ’রা। এমনকি একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বাসে আটক করা একজন আন্দোলনকারীর মুখে সজোরে ঘুষি মারছেন দিল্লি পুলিশের এক কর্মী। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এদিন শুধু বাম ছাত্র, যুবদের আন্দোলনই নয়। একই ইস্যুতে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও দলীয় নেতৃত্বকে চরম পুলিশি প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে। অভিযোগ, দু’টো বিক্ষোভ কর্মসূচিতেই আহত হয়েছেন একাধিক বিক্ষোভকারী। পুলিশের প্রবল টানা হ্যাঁচড়ায় দিল্লির রাজপথেই কার্যত সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন বাম নেত্রী নেহা সহ কয়েকজন আন্দোলনকারী। তাঁদের চোখে-মুখে জল ছিটিয়ে কিছুটা ধাতস্থ করা হয়।
কে এই জেনারেল ডায়ার? তাঁরই নির্দেশে জালিয়ানওয়ালাবাগে নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। অর্থাৎ, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যে ভূমিকা নিয়েছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন দিল্লি পুলিশ, তা আদতে জালিয়ানওয়ালাবাগের সঙ্গেই তুলনীয়! শুক্রবার এমনই বুঝিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। যদিও ‘ককরোচ’রা এদিন যে কর্মসূচি নিয়েছিল, তাতে দিল্লির নাম ছিল না। মুম্বই, গোয়া, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ অবস্থান করেছে তারা। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে অক্টোবরের শেষ থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু তাদের মন্তব্য থেকে পরিষ্কার, জেন জি’দের চোখ ছিল দিল্লির দিকেও। দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, প্রতিবাদ বিক্ষোভের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অশান্তির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। যন্তরমন্তর চত্বরে এমন ব্যবস্থা করা হয় যাতে, মাছিও গলতে না পারে। বিশাল পুলিশ বাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ান, কাঁদানে গ্যাসের শেল—প্রতিরোধের প্রস্তুতিতে কোনো ‘ফাঁক’ রাখেনি দিল্লি পুলিশ। যদিও সেই প্রতিরোধকে বিশেষ পাত্তা দেয়নি বিক্ষোভরতরা। ভাঙা হয়েছে গার্ডরেলের ব্যারিকেড। যন্তরমন্তরের দিকে দৌড়ে ঢুকতে দেখা গিয়েছে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে। লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গিয়েছেন পুলিশ কর্মীরা। যদিও যন্তরমন্তরে জমায়েত হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া পোস্টারও দেখা গিয়েছে সেই জমায়েতে। সেই পোস্টারে লেখা ‘কেহতি হ্যায় বঙ্গাল কি দিদি, রিজাইন করো নরেন্দ্র মোদি।’ দিনভর বন্ধ রাখার পর রাতে দিল্লি মেট্রোর সবক’টি স্টেশনের গেট খোলা হয়েছে। যদিও দিল্লির রাজপথে কড়াকড়ি ছিল পুরোমাত্রায়। বাম ছাত্র-যুব সংগঠন জানিয়েছে, সৃজন ভট্টাচার্য, ঐশী ঘোষ, হিমাংঘ্নরাজ ভট্টাচার্য সহ একাধিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হয়েছেন সিপিএএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এবং বৃন্দা কারাতও। পুলিশি ‘দমন-পীড়নে’র কড়া নিন্দা করেছে সিপিএম পলিটব্যুরোও। দিল্লি থেকে জোটের কাজ সেরে কলকাতায় ফিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন কর্মসূচির সব খবর আমি রাখছি। ওদের আন্দোলনে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আটক করা হচ্ছে সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবকে। -পিটিআই