নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটার হতে হবে বুথ লেভেল অফিসারকে (বিএলও)। জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিএলও সংক্রান্ত এই নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে। গ্রুপ-সি বা তার উপরের সরকারি কর্মচারী বা স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের কর্মচারীই বিএলও নিয়োগের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছেন। এহেন কর্মচারী না মিললে, সেক্ষেত্রে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক অথবা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিএলও হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এবং ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (জেলাশাসক) স্বাক্ষরিত ‘নন অ্যাভেলিবিলিটি সার্টিফিকেট’ জোগাড় করে রাখতে হবে চিফ ইলেকটোরাল অফিসারকে (সিইও)। এরই পাশাপাশি কমিশনের নির্দেশ, যদি সংশ্লিষ্ট বুথের কাউকে বিএলও হিসেবে না পাওয়া যায়, তবে গ্রুপ-সি বা তার উর্ধ্বের সরকারি কর্মচারী বা পুরসভা-পঞ্চায়েত কর্মচারী, যিনি ওই পার্টের ভোটার, তাঁকে করা যাবে বিএলও। একইসঙ্গে এবার রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) ছবি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই নিয়ে নয়া বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
এই নির্দেশিকা পেয়ে প্রশাসনিক স্তরে রীতিমতো শোরগাল শুরু হয়েছে। প্রতিটি বুথের সরকারি কর্মচারীদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিইও দপ্তর থেকে প্রতিটি জেলাশাসককে ওই চিঠি পাঠিয়ে অতিসত্ত্বর বিএলও’দের তালিকা করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সেই তালিকা এবং বিএলও সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট সিইও দপ্তরে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আবর্তই আবারও রাজ্য থেকে এক দল বুথ লেভেল অফিসারকে দিল্লিতে ট্রেনিং দিতে ডাকা হয়েছে। শীঘ্রই প্রতি জেলা থেকে বাছাই করা কয়েকজন বিএলও দিল্লিতে প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন।
অপরদিকে, এতদিন বুথ লেভেল এজেন্টদের শুধু ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েই কাজ শেষ হয়ে যেত। সেক্ষেত্রে একজনের নাম দিয়ে আরেকজন এজেন্টের কাজ করার মতো অভিযোগ ও সম্ভাবনা থাকতই। কিন্তু এবারে নিয়ম সংশোধন করল কমিশন। তারা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ছবি ও মোবাইল নম্বর ছাড়া ফর্ম পূরণ করা যাবে না। এতে জালিয়াতি বা ভুয়ো এজেন্ট ধরা যাবে বলেই দাবি কমিশনের। রাজনৈতিক দল যাঁদের বুথ লেভেল এজেন্ট করবে, তাঁদের এখন এই সংশোধিত বিএলএ-২ ফর্ম পূরণ করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের একটি ছবি, মোবাইল নম্বর ও সই লাগবে।