স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: এবার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই ব্যবহার করে অপরাধী ধরতে কোমর বাঁধছে রাজ্য পুলিস। থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখে এফআইআর রুজু করা হয়। এক্ষেত্রে অপরাধের ধরন চিহ্নিত করে অপরাধীদের খুঁজতে সহায়তা করবে এআই। এমনই অভিনব প্রযুক্তি আসতে চলেছে রাজ্যে। ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক সিস্টেমে (সিসিটিএনএস) এআই প্রযুক্তিকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো বা এনসিআরবি। সেই প্রস্তাব মতো ওড়িশায় পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়। এবার বাংলায় অপরাধীদের দ্রুত পাকড়াও করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই এনসিআরবি’র সঙ্গে এনিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সেরেছে রাজ্য পুলিস।
এফআইআর থেকে শুরু করে যারা আদালতে দোষী সাব্যস্ত, তাদের খতিয়ান এখন দেশজুড়ে একসূত্রে বাঁধা। সৌজন্যে সিসিটিএনএস। দেশের সব থানার প্রায় ৯৫ শতাংশ মামলাই এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তদন্তকারী অফিসাররা থানায় বসেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব তথ্যের নাগাল পেয়ে যান। সেই তথ্যভাণ্ডারকে এবার আরও আধুনিক করে তুলতে উদ্যোগী এনসিআরবি। ২০২২ সালে এ নিয়ে এনসিআরবি’র কর্তারা উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। তারপর দেশজুড়ে নয়া পদ্ধতি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই প্রকল্প চলে যায় বিশ বাঁও জলে। পরে প্রাথমিকভাবে ওড়িশায় তা শুরু হয়। সেই রাজ্যের ৬০০টি থানায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সুফল মেলায় এবার পশ্চিমবঙ্গে আসতে চলেছে এই প্রযুক্তি।
কীভাবে অপরাধের ধরণ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করবে এআই? পুলিস সূত্রে খবর, এফআইআরে লেখা কিছু তথ্য সিসিটিএনএসের তথ্যভাণ্ডারে দিতে হবে (শুধুমাত্র তদন্তকারী আধিকারিকদের জন্য প্রযোজ্য), যেমন— কী ধরনের অপরাধ, অভিযুক্তের নাম, দাগী অপরাধীদের ডাক নাম, ঘটনাস্থল ইত্যাদি। পুলিসের খাতায় আগে থেকে নাম থাকলে অপরাধের ধরন টাইপ করলেই অপরাধীকে চিহ্নিত করে দেবে এই বিশেষ প্রযুক্তি। তবে কনভেনশনাল ক্রাইম বা গতানুগতিক অপরাধের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সন্দিহান পুলিস মহল। যদিও তাঁদের মতে, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে সাইবার ক্রাইম ও ডিজিটাল অ্যারেস্ট জাতীয় প্রতারণার ক্ষেত্রে।
রাজ্য পুলিসের একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, ‘বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, অপহরণের মিথ্যা গল্প ফেঁদে আপনার পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়ের গলা এআই দিয়ে বদলে দেওয়া হচ্ছে। এরপরেই মুক্তিপণের নাম করে টাকা হাতানোর জন্য ফোন করছে প্রতারকরা। ভিডিওর মাধ্যমে এই কাজ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট অডিও বা ভিডিও ক্লিপ পুলিসকে দিলে তা আসল কি না, এআই মারফত যাচাই করতে পারবেন তদন্তকারীরা। শুধু তাই নয়, কোথায় ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে, তারও আভাস দিতে পারবে এই প্রযুক্তি।
কীভাবে সিসিটিএনএসে কাজ করবে এআই বেসড মোডাস অপারেন্ডি সার্চ? যৌথভাবে অপারেশনে নামবে ‘মেশিন লার্নিং’ ও ‘ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং’। এই দুই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীদের পাকড়াও করতে বাড়তি সুবিধা হবে উর্দিধারীদের। এআইয়ের মাধ্যমে সিসিটিএনএসের তথ্যভাণ্ডারকেও ব্যবহার করা আরও সহজ হবে। ইংরেজি ও হিন্দি দুই ভাষার এফআইআরের ক্ষেত্রেই তথ্য জোগাতে সক্ষম হবে এআই।