সংবাদদাতা, মানকর: বিধানসভা ভোটের প্রাক লগ্নে সর্বত্র যেখানে প্রার্থীর প্রচারের জন্য দেওয়াল লিখন চলছে সেখানে আউশগ্রাম-২ ব্লকের লবণধার গ্রামে অন্য ছবি। ওই গ্রাম ভোট প্রচারের ছোঁয়া থেকে দূরে। এই গ্রামের বাড়িগুলির দেওয়াল জুড়ে কোনো প্রার্থীর দলীয় প্রতীক ও নাম লেখা নেই। দেওয়ালগুলিতে রয়েছে, জঙ্গলরক্ষার বার্তা, গ্রামীণ জীবনের দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি। গ্রামবাসীরাই বলছেন, আমাদের গ্রাম আলপনা নামে দেশ জুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। গোটা গ্রাম একজোট হয়ে এই ঐতিহ্য মেনে চলি আমরা। তাই বাড়ির দেওয়ালগুলি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচার লিখনের জন্য দেওয়া হয়নি। দেওয়ালে মারতে দেওয়া হয়নি কোনো দলের পোস্টার। রাজনৈতিক দলগুলিও এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় ৩০০ বছর আগে ডাকাতের উৎপাত থেকে বাঁচতে বড়োডোবার রায়বাড়ির সদস্যরা একটি পাখি উড়িয়েছিলেন। তাঁরা ঠিক করেন পাখি যেখানে বসবে সেখানেই নতুন করে বসতি স্থাপন করা হবে। লবণধার গ্রামের ধর্মরাজতলায় একটি বড়ো বটগাছে পাখিটি এসে বসে। সেখানেই নতুন বসতি স্থাপন হয়। গ্রামের নাম দেওয়া হয় নতুনগ্রাম। কিন্তু পরে দেখা যায় আশপাশে আরও নতুনগ্রাম রয়েছে। বিভ্রান্তি এড়াতে তাই নাম রাখা হয় নবধার বা নবনধার। কালক্রমে সেটিই লবণধার হিসেবে পরিচিত লাভ করে। বর্তমানে এই গ্রাম আলপনা নামেও পরিচিতি লাভ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে প্রায়ই আগুন লাগে। জঙ্গলে আগুন লাগালে সেখানে বাস করা প্রাণীদের সমস্যা হয়। পাশাপাশি পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতার পাঠ দিতেই গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে তৈরি করেন একটি সংগঠন। তাঁরাই প্রথম উদ্যোগী হয়ে বাড়ির দেওয়ালগুলিতে ছবি আঁকা শুরু করেন। পরবর্তীকালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই উদ্যোগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং ভিনরাজ্য থেকে শিল্পীরা চলে আসেন লবণধার গ্রামে। তাঁরা বিভিন্ন চিত্র অঙ্কন করেন বাড়ির দেওয়ালগুলিতে। সেই চিত্র দেখতেই সারা বছর বহু পর্যটক এখানে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা অর্ণব ঘোষ বলেন, দল মত নির্বিশেষে সবাই আমাদের এই কর্মসূচিকে সম্মান করেন। তাই ছবিতে যা বার্তা দেওয়া হয়, তা মুছে রাজনৈতিক প্রচার হয় না এখানে। তৃণমূলের আউশগ্রাম ২ ব্লকের সভাপতি আব্দুল লালন বলেন, আমরা ওখানে কোনো রকম দেওয়াল লিখন করিনি। আমাদের কর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটের প্রচার করছেন। বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, ওই গ্রামের সংস্কৃতিকে আমরা সম্মান জানিয়ে সেভাবেই ওখানে প্রচার চলছে।-নিজস্ব চিত্র