Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ত্রিপুরা-মেঘালয়ে উন্নতি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অসমে

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না অসমে। বরং সোমবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হল। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় জলস্তর বেড়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ত্রিপুরা-মেঘালয়ে উন্নতি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অসমে
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গুয়াহাটি: বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না অসমে। বরং সোমবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হল। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় জলস্তর বেড়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের স্থানীয় শাখা সংস্থা আরএমসির পূর্বাভাস চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। গুয়াহাটিতে আরএমসি জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার রাতে কাছার ও শ্রীভূমি জেলায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে বন্যা ও ধসে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ১০ জন। অসম স্টেট ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, রাজ্যের ১৫টি জেলায় প্রায় চার লক্ষ মানুষ বন্যা কবলিত। 

Advertisement

অসমের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কাছাড় জেলায়। সেখানে এক লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এরপরেই রয়েছে শ্রীভূমি। সেখান বন্যা কবলিত ৮৫ হাজার মানুষ। নগাঁওতে বন্যার কবলে ৬২ হাজার মানুষ। ১২ জেলায় ১৫৫টি ত্রাণ শিবির খুলেছে অসম সরকার। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ১০ হাজার ২৭২ জন। এএসডিএমএ জানিয়েছে, ৭৬৪টি গ্রাম এখন জলের নীচে। ৩ হাজার ৫২৪ হেক্টর জমির শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিব্রুগড় এবং নিমাতিঘাটে ব্রহ্মপুত্রের জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। বন্যার জেড়ে ভেঙে পড়েছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফেরি পরিষেবাও বিপন্ন। এদিন লখিমপুরে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। জলস্তর বৃদ্ধির জেরে জলাধারগুলির বাঁধ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্ক করে জল ছাড়ার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 
মণিপুরের অবস্থাও বিপন্ন। বন্যা কবলিত মানুষকে উদ্ধারে রাজ্যে শুরু হয়েছে অপারেশন জলারহাট-২। তাতে শামিল হয়েছেন সেনা এবং অসম রাইফেলসের জওয়ানরা। পূর্ব এবং পশ্চিম ইম্ফল থেকে প্রায় ৫০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ত্রিপুরায়। রবিবার থেকে আর বৃষ্টি হয়নি। রাজ্যের অধিকাংশ নদীর জলস্তরই নেমেছে। তবে এখনও ৬৬টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মেঘালয়েও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ