Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ম্যাগাজিন

আয়ুর্বেদে দুধের গুরুত্ব!

মানবদেহের সমস্ত জীবন প্রক্রিয়া, বৃদ্ধি, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন শক্তির। আর সেই শক্তি সরবরাহের জন্য দরকার খাদ্যের।

আয়ুর্বেদে  দুধের গুরুত্ব!
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৩
Prefer us on Google

ডাঃ অচিন্ত্য  মিত্র: মানবদেহের সমস্ত জীবন প্রক্রিয়া, বৃদ্ধি, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন শক্তির। আর সেই শক্তি সরবরাহের জন্য দরকার খাদ্যের। একটি সুষম খাদ্যে সঠিক পরিমাণে এবং অনুপাতে বিভিন্ন ধরনের উপকারী উপাদান থাকে। ফলে এই ধরনের খাদ্য খেলে তা শরীরের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কারণ শরীর চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, একাধিক ভিটামিন এবং খনিজের। এছাড়া সুস্থ স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখতে হলেও সুষম খাদ্য খাওয়া দরকার। তাছাড়া আয়ুর্বেদেও খাদ্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আয়ুর্বেদ অনুসারে আমাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নির্ভর করে জীবনের ত্রি-উপস্তম্ভ— বায়ু-পিত্ত-কফের ভারসাম্যের উপর। ওই তিনটি উপস্তম্ভের দ্বারাই শরীরের শক্তি বৃদ্ধি হয়। এই তিনটি উপস্তম্ভের উপরেই পূর্ণ জীবনকালের সুস্থতা নির্ভর করে। নিয়ম মেনে চললে এই তিনটি উপস্তম্ভই শরীরকে সুস্থভাবে চালনা করে।

Advertisement

আয়ুর্বেদ অনুসারে মহাবিশ্বের যে কোনও উপাদান পাঁচটি মৌলিক উপাদান, পঞ্চ মহাভূত, যথা — পৃথ্বী (পৃথিবী), অপ (জল), তেজ (আগুন), বায়ু (বায়ু) এবং আকাশ দ্বারা গঠিত। ত্রিদোষ অর্থাৎ বাত, পিত্ত এবং কফ যা দেহ গঠন করে তাও পঞ্চ মহাভূত দ্বারা গঠিত। প্রতিটি খাদ্য উপাদানেই শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া বা মানবদেহে প্রশান্তিদায়ক বা ভারসাম্যমূলক ক্রিয়া থাকে। এই ত্রি দোষের সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য আয়ুর্বেদে নির্দিষ্ট খাদ্য গ্রহণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং খাদ্যাভ্যাস আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে। সেজন্যই আয়ুর্বেদে আহারকে হিসেবে  গণ্য করা হয়।
আয়ুর্বেদ হল একটি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি যা তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। এই বিজ্ঞানে স্বাস্থ্যের জন্য একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আয়ুর্বেদে ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যক্তিগতকৃত অর্থাত্ রোগীর প্রকৃত সমস্যা বুঝে চিকিত্সা করা হয়। আয়ুর্বেদে ওষুধ ও খাদ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে স্বাস্থ্যকে সমস্ত শারীরবৃত্তীয়, এবং মনস্তাত্বিক সত্তার একটি সুষম অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে। স্বাস্থ্য এবং রোগ যথাক্রমে স্বাস্থ্যকর এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের কারণে ঘটে বলে ধরা হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিত্সকরা প্রাচীন চিকিৎসা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ব্যতীত ওষুধ খেয়ে কোনও লাভ হয় না। সবচাইতে বড় ব্যাপার সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ওষুধের প্রয়োজন হয় না। 
দুধ ও আয়ুর্বেদ
দুধকে খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিশু এবং তরুণদের জন্য দুধ একটি সম্পূর্ণ খাদ্য। আর সমস্ত বয়সের ক্ষেত্রেই দুধ  উপযোগী। দুধে রয়েছে মূল্যবান পুষ্টি উপাদান যেমন ক্যালশিয়াম এবং প্রোটিন। এই দুটি উপাদান বাচ্চাদের ক্রমবর্ধমান শরীরকে সহায়তা করে। হোল মিল্ক, স্কিমড মিল্ক সহ বিভিন্ন ধরনের দুধ পানীয় হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি দুধ থেকে দই, বাটার মিল্ক, মাখন, দধি মাস্তু, ঘোল, পনির, ঘৃত ইত্যাদিও তৈরি করা যায়। এই ধরনের খাদ্যগুলি শরীরের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। এমনকী আয়ুর্বেদে কোনও কোনও ক্ষেত্রে উপাদানগুলিকে প্রতিষেধক এবং নিরাময়মূলক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়েছে।
এমনকী কোনও কোনও ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদিক ওষুধে দুগ্ধজাত দ্রব্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বলা ভালো আয়ুর্বেদিক ওষুধে ঘোল, দই, মাখন এবং ঘি প্রায়ই ঔষধি ফর্মুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বা ওষুধের সঙ্গে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়।
আয়ুর্বেদ অনুসারে ওষুধ প্রস্তুতিতে বিভিন্ন প্রাণীর দুধ ব্যবহার করা হয়। প্রধানত পশু থেকে মেলে এমন আট প্রকার দুধের কথা বলা হয়েছে। অর্থাত্‍ দুধ  গোরু, মহিষ, ছাগল, উট, মানুষ, ভেড়া, হাতি,  ঘোড়া ইত্যাদি থেকে। সর্বোপরি, গোরুর দুধ থেকে এটি সেরা হিসাবে বিবেচিত হয়। সমস্ত লিপিড-এর মধ্যে ঘৃতকে সর্বোত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য একজন ব্যক্তিকে এগুলি প্রতিদিন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আয়ুর্বেদ নির্দিষ্ট রোগের অবস্থার জন্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে শুধু দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টিনাল সিস্টেমকে প্রভাবিত করে এমন সমস্যায় যখন রোগী খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন ও শক্ত খাদ্য খেতে পারেন না তখন তাঁকে তরল সুষম খাবার হিসেবে দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্য খাওয়ার কথা বলা হয়। 
• বৈজ্ঞানিকভাবে, দুধ একটি সুষম খাদ্য হিসাবে বিবেচিত হয়। কারণ দুধে সেই সব প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে দুধে থাকে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন, রাইবোফ্ল্যাভিন, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি ১২। দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের ব্যবহার স্বাস্থ্যকর ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
• আয়ুর্বেদ অনুসারে ব্যক্তির স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দুধ এবং ঘি প্রতিদিনের খাদ্যের একটি অনিবার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এখন, গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে যে দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের সঠিক ব্যবহার করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, নির্দিষ্ট ক্যান্সার এবং ডিমেনশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলতে পারে।
• দুগ্ধজাত পণ্যগুলি খাদ্যের পাশাপাশি ওষুধের অংশ হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনেক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রস্তুতির প্রক্রিয়াটি থেরাপিউটিক ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুসারে পরিবর্তিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, অনুতৈল, উপাদানগুলি ছাগলের দুধে সিদ্ধ করা হয়। চারটি গবেষণায় এই ওষুধটি অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে যখন অনুনাসিক পথ-নাস্যার মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী সাইনুসাইটিসের উপর করা একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রায় ওষুধটি ৯৬ শতাংশেরও বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। 
এই ওষুধ প্রস্তুতিটি ব্যবহার করে, ছাগলের দুধ এবং তিলের তেলে প্রক্রিয়াকৃত ২৭টি ভেষজ উপাদানের সক্রিয় উপাদানগুলি অনুনাসিক গহ্বরের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। উপাদানগুলি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে মিউকোসাল স্তরগুলিকে রক্ষা করে। এটি কোভিড চিকিত্সা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলির জন্য সাফল্যের সঙ্গেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
ক্ষীরপাকের ক্ষেত্রে (যা  একটি প্রচলিত ওষুধ তৈরির পদ্ধতি), ওষুধটি দুধ এবং জলের সঙ্গে সেদ্ধ করে দুধের পরিমাণ হ্রাস করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে টার্মিনালিয়া অর্জুন থেকে ক্ষীরপাক প্রদাহের শেষ পর্যায়ে তার হাইড্রোঅ্যালকোহলিক নির্যাসের জন্য আরও কার্যকরী এবং সমতুল্য ছিল। এই গবেষণাটি ইঙ্গিত করে যে সক্রিয় ফাইটোকেমিক্যালের নিষ্কাশন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে তাদের বিতরণ জলের পরিবর্তে দুধ ব্যবহার করে আরও ভালোভাবে অর্জন করা হয়।
• ইন্দুকান্ত ঘৃত এবং ইন্দুকান্ত কষায় একটি তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে। পর্যবেক্ষণ অনুসারে ঘি বা ঘৃতে মোট ফাইটোকেমিক্যাল বেশি ছিল।
• দুধ থেকে ঘোল প্রস্তুতিতে সন্ধান প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। এটি অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের বৃদ্ধিকে সহজ করে। সাম্প্রতিক কিছু অধ্যয়ন থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে যে, ঘোলে থাকা প্রি বায়োটিক আইবিএস-এর সমস্যা কমাতে কার্যকরী। গবেষণায় প্রোবায়োটিকগুলিকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল যার মধ্যে ছিল ল্যাকটোব্যাসিলাস প্ল্যান্টারাম টিপিফাইভ এবং ক্লুইভেরোমাইসিস মার্কসিয়ানাস টিপিসিক্স এবং টিএমওয়ান ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রোবায়োটিক। ঘোল হল প্রদাহজনক আন্ত্রিক রোগের মতো বিভিন্ন পেটের রোগের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ একটি ওষুধ।
• দুগ্ধজাত দ্রব্যগুলি হরিদ্রা খণ্ড এবং চ্যবনপ্রাশ অবলেহের মতো কিছু নির্দিষ্ট আয়ুর্বেদিক ওষুধের সহায়ক হিসেবও ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ সহজতর করা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কার্কিউমিনয়েড বহন এবং স্থিতিশীল করার জন্য বাটারমিল্কের ক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। তবে ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে তৈরি ঘি-এ ডকোহেক্সানোয়িক অ্যাসিড বেশি পাওয়া যায়, যা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকারী হিসেবে মেডিকেটেড ঘি ব্যবহারকে সমর্থন করার দৃঢ় প্রমাণ দেয়। ঘি-এর সঙ্গে ভেষজকে পাক করলে ঘি তার নিজের গুণ হারিয়ে ভেষজের ঔষধি গুণকে ধারণ করে তার যোগবাহীগুণের জন্য।
• এই গেল আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের ব্যবহার। তবে ওষুধ প্রস্তুতি ছাড়াও আয়ুর্বেদে গর্ভাবস্থায় দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়ার গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে আলাদা করে। 
ক্লিনিক্যাল গবেষণা ইতিমধ্যেই আয়ুর্বেদিক প্রসবপূর্ব যত্নের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। একটি ক্লিনিক্যাল সমীক্ষা থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গিয়েছে যে একজন সন্তানসম্ভবার প্রথম ত্রৈমাসিকে দুধ খাওয়া (গোরুর দুধ) তার গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
• দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যে ভেষজ ওষুধের প্রক্রিয়াকরণ তাদের থেরাপিউটিক ক্রিয়াকে উন্নত করতে পারে এবং সেই সঙ্গে স্বাদও বাড়াতে সক্ষম। দুধে প্রক্রিয়াকরণে ওষুধের বিষাক্ত ভাব, ধাতু এবং খনিজগুলির বিষাক্ত ভাব কমাতে পারে। গবেষণায় আরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দুধ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্য মানুষের অন্ত্রের প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভালো।
• আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে বলা যেতে পারে যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন দুধ এবং ঘি ব্যবহার করা উচিত। তবে দই ও ঘোল  যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, পিত্তস্থলী, পেটের রোগে পথ্য হলেও আর্থ্রাইটিস রোগে অপথ্য।
এড়াতে হবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিরুদ্ধ আহার
অসঙ্গত বা বিপরীত গুণসম্পন্ন খাবারের শরীরে বিষাক্ত প্রভাব রয়েছে যা শরীরের ভিতরে ত্রিদোষকে বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে গুলমা (পিণ্ড), জ্বর, অ্যালার্জিক ডার্মাটাইটিস, একজিমা, ফোঁড়া এবং অন্যান্য চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। বিপরীত গুণসম্পন্ন খাদ্য একজন ব্যক্তির শরীরের প্রাণশক্তি, স্মৃতিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদিকেও ধ্বংস করে।  প্রশ্ন হল কোন ধরনের খাদ্য একসঙ্গে গ্রহণ করা উচিত নয়? দেখা যাক—
• দুধের সঙ্গে মাছ বা এর স্যুপ।
• অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় সহ দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য। 
• দুধের সঙ্গে মুলো খাওয়া।
• মধুসহ পদ্মের কাণ্ড।
• সমপরিমাণ মধু সহ ঘি।
লেখক: সিকিমের গ্যাংটকের রিজিওনাল আয়ুর্বেদ ইনস্টিটিউট-এর রিজিওনাল আয়ুর্বেদ ইনস্টিটিউট-এর প্রভারী সহায়ক নির্দেশক

সম্পর্কিত সংবাদ