Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডোমজুড়-জগৎবল্লভপুরের ইমিটেশন শিল্প নিয়ে হতে পারে ক্লাস্টার, দাবি তৃণমূল প্রার্থী সুবীরের

সম্প্রতি জগৎবল্লভপুরে নির্বাচনি জনসভায় এসে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে জেলার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন। গ্রামীণ হাওড়ায় সেই শিল্প সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার সক্রিয় তৃণমূল প্রার্থীও।

ডোমজুড়-জগৎবল্লভপুরের ইমিটেশন শিল্প নিয়ে হতে পারে ক্লাস্টার, দাবি তৃণমূল প্রার্থী সুবীরের
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সম্প্রতি জগৎবল্লভপুরে নির্বাচনি জনসভায় এসে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে জেলার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন। গ্রামীণ হাওড়ায় সেই শিল্প সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার সক্রিয় তৃণমূল প্রার্থীও। ক্ষমতায় এলে ডোমজুড়-জগৎবল্লভপুর এলাকাতেই গড়ে উঠতে পারে জেলার বৃহত্তম ইমিটেশন গয়না তৈরির হাব, নির্বাচনি প্রচারে এই প্রতিশ্রুতিতে বিশেষ জোর দিচ্ছেন জগৎবল্লভপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুবীর চট্টোপাধ্যায়। তাতে সাড়াও মিলছে ভালো।

Advertisement

হাওড়ার ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর বহুদিন ধরে ইমিটেশন গয়না শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। পিতল, তামা ও বিভিন্ন সংকর ধাতুর নেকলেস, চুড়ি, আংটি, কানের দুল তৈরির ক্ষেত্রে এখানকার কারিগরদের দক্ষতা সুপরিচিত। কুন্দন, মিনাকারি, অক্সিডাইজড মেটাল ও মুক্তোর সূক্ষ্ম কারুকাজে তৈরি এই গয়না সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে জনপ্রিয়। শুধু স্থানীয় চাহিদা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাইকারি বাজারেও এখানকার তৈরি গয়নার যথেষ্ট কদর রয়েছে। মূলত উত্তর ঝাপড়দহ, বারুইপাড়া, ফোকর দোকান সহ হাওড়া-আমতা রোডের দু’ধারে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট উৎপাদন কেন্দ্র। এই কারখানাগুলিতে হাজার হাজার কারিগর ও শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের বড়ো অংশই ডোমজুড়, জগৎবল্লভপুর, আমতা সহ গ্রামীণ হাওড়ার বাসিন্দা। তবে এই ইউনিটগুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার ফলে আধুনিক পরিকাঠামো, বিপণন ব্যবস্থা ও সংগঠিত উৎপাদনের সুযোগ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত বলে মনে করছে শিল্পমহল।
এই পরিস্থিতিতে সমস্ত ইমিটেশন ইউনিটগুলিকে একত্রিত করে একটি আধুনিক ক্লাস্টার বা হাব তৈরির পরিকল্পনা সামনে এনেছেন তৃণমূল প্রার্থী। সুবীর চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই অঞ্চলে বহু বছর ধরেই ইমিটেশন শিল্প গড়ে উঠেছে। যদি নির্দিষ্ট পরিকাঠামো ও পরিকল্পিত পরিবেশ তৈরি করা যায়, তাহলে উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন, সেই পথেই আমরা এগতে চাই। প্রস্তাবিত হাবে ধাপে ধাপে বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট, স্টোরেজ, ডিজাইন ও বিপণন ব্যবস্থাকে এক ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে উৎপাদনের খরচ কমার পাশাপাশি বাজার ধরতেও সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে নির্বাচনি প্রচারে এই পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন প্রার্থী। এই উদ্যোগে ঘিরে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকের বক্তব্য, এলাকায় যদি শিল্পের বিকাশ হয়, তাহলে কাজের খোঁজে আর বাইরে যেতে হবে না। পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। সব মিলিয়ে, গ্রামীণ হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী ইমিটেশন শিল্পকে সংগঠিত রূপ দেওয়া এবার নির্বাচনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ