স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: সবে সন্ধ্যা নামছে। এনআরএসের গেটের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক প্রৌঢ়। আচমকা বাইকে চেপে এসে একজন তাঁর বুকপকেট থেকে আইফোন নিয়ে মুহূর্তে উধাও।
স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: সবে সন্ধ্যা নামছে। এনআরএসের গেটের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক প্রৌঢ়। আচমকা বাইকে চেপে এসে একজন তাঁর বুকপকেট থেকে আইফোন নিয়ে মুহূর্তে উধাও।
এরকম ঘটনা একটা না! প্রকাশ্যে দিনের ব্যস্ত সময়ে আইফোন চুরির গুচ্ছ গুচ্ছ ঘটনার নজির রয়েছে কলকাতায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই বেধড়ক গণপিটুনি জুটতে পারে। তা সত্ত্বেও এত সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে আইফোনের ছিনতাইবাজরা?
উত্তরটা লুকিয়ে সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন বিক্রির বাজারে। চুরির আইফোন বিক্রি করতে পারলেই মোটা টাকা কমিশন জোটে ছিনতাইবাজদের। প্রত্যেক আইফোন পিছু ১০-১২ হাজার টাকা। চুরি করা ফোনের অসাধু কারবারিরা নিমেষে বদলে ফেলে মোবাইলের ‘ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি’ বা আইএমইআই নম্বর। তারপরই পুলিশের নাগালের বাইরে চলে যায় সেই ফোন। সেটিকে আর ট্র্যাক করা আর সম্ভব হয় না। এরপর সেই ফোন ‘রিসেট’ করে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোনের বাজারে। অপেক্ষাকৃত কম দামে সেই ফোন কিনে নিচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। যদিও তাঁরা ভাবছেন ‘অফার’ মূল্যে মোবাইল কিনে লাভ তাঁদেরই। এই বাজারে আইফোনের চাহিদা বেশি থাকলেও অন্যান্য কোম্পানির জাল আইএমইআই নম্বরের হ্যান্ডসেটও দেদার বিকোচ্ছে।
এই অবস্থায় জাল আইএমইআই নম্বরযুক্ত ফোনগুলি পুলিশ-প্রশাসনের নজরে। টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গত এক মাসে প্রায় ৭৫ হাজার জাল আইএমইআই নম্বরের ফোন চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের জুড়ে একাধিক রাজ্যে চলছে অভিযান। জাল আইএমইআই নম্বরসহ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীকে পাকড়াও করলেই ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। অন্যথ্যায় ৩ বছরের জেল হেপাজত।
শুধু হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর নয়, অসাধু ব্যবসায়ীরা বদলে দিচ্ছে চুরির মোবাইলে থাকা সিমের কলিং লাইন আইডেন্টিটি (সিএলআই) নম্বরও। কী এই সিএলআই? টেলি কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি সিমের একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকে। যা সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থার কাছে নথিভুক্ত থাকে। শুধুমাত্র মোবাইলে বিশেষ কিছু অ্যাপ ব্যবহার করে এই আইএমইআই নম্বর ও সিএলআই দু’টিই বদলে দেওয়া সম্ভব। যা ভারতে সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। এর ফলে চুরির মোবাইল ট্র্যাক করা পুলিশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সেই চুরির মোবাইল চলে যাচ্ছে সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইলের দোকানে। নতুনের দামের প্রায় অর্ধেক দামে তা কিনে নিচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞ মহলের পরামর্শ, সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল কেনার আগে হ্যান্ডসেটটির আইএমইআই নম্বর অবশ্যই যাচাই করা উচিত। অন্যথায় আইনি জালে জড়াতে পারেন ক্রেতা। ভারত সরকারের ‘সঞ্চার সাথী’ পোর্টালে মোবাইলের বাক্সে লেখা আইএমইআই-১ ও ২ নম্বর দু’টি দিয়ে এই নম্বর যাচাই করা যাবে।