রাজদীপ গোস্বামী , কেশপুর: একসময় কেশপুর ব্লকের শীর্ষা পঞ্চায়েত এলাকায় রাজনৈতিক হানাহানি, খুন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ মানুষ তো বটেই, পুলিসও এলাকায় ঢুকতে ভয় পেত। কিন্তু এখন সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে।
রাজদীপ গোস্বামী , কেশপুর: একসময় কেশপুর ব্লকের শীর্ষা পঞ্চায়েত এলাকায় রাজনৈতিক হানাহানি, খুন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ মানুষ তো বটেই, পুলিসও এলাকায় ঢুকতে ভয় পেত। কিন্তু এখন সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে।
এলাকায় রাস্তা, শৌচাগার, মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে নানা প্রকল্প রূপায়ণের পরিকল্পনা নিয়েছে পঞ্চায়েত।
এলাকার মানুষ জানালেন, আগে রাস্তার অবস্থা এত খারাপ ছিল যে, পঞ্চায়েত অফিসে যেতেও নাভিশ্বাস উঠত। রাজনৈতিক হানাহানির ফলে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হতো। উন্নয়নের চেয়েও শান্তি এলাকার মানুষের প্রধান দাবি হয়ে উঠেছিল। অবশেষে এলাকায় শান্তি ফিরে আসায় তাঁরা স্বস্তিতে রয়েছেন।
পঞ্চায়েত প্রধান কার্তিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষকে সঠিক পরিষেবা দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। তাই সারাবছর ধরেই নানা প্রকল্প রূপায়িত হয়। এখনও বেশকিছু এলাকায় কাজ বাকি রয়েছে। ধাপে ধাপে সেই সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে এলাকায় যে শান্তি ফিরেছে তা জোরগলায় বলতে পারি।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে শীর্ষায় বিরোধী শিবির ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এই পঞ্চায়েতের ২০টি আসনের সবক’টি তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল। তার অন্যতম কারণ, বাম জমানার রাজনৈতিক হানাহানি দূর হয়েছে। সেইসঙ্গে মানুষ নানা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
গত অর্থবর্ষে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে নানা প্রকল্পের রূপায়ণ হয়েছে। গত ১৫বছরে এই পঞ্চায়েত এলাকায় তিনটি বড় মার্কেট কমপ্লেক্স, ১৫টি আইসিডিএস কেন্দ্র, প্রায় ২০কিমি কংক্রিটের রাস্তা, ছয় কিমি নালা, তিনহাজারের বেশি শৌচাগার তৈরি সহ নানা প্রকল্পের কাজ হয়েছে। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে হাইমাস্ট পথবাতি, সৌরবাতি, একাধিক কালভার্ট তৈরি হয়েছে।
এক পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, আগে পঞ্চায়েত অফিসে বিপুল টাকার বিদ্যুৎবিল আসত। তাই এখন উন্নত প্রযুক্তির বিশালাকার সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। ফলে পঞ্চায়েতের বিদ্যুৎবিল অনেক কমে গিয়েছে। মার্কেট কমপ্লেক্স, কমিউনিটি হল থেকে বছরে লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে।
কেশপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় ভালো কাজ হচ্ছে। প্রচুর মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। সিপিএমের অত্যাচার মানুষ এখনও ভুলতে পারেনি।তবে এই পঞ্চায়েত এলাকায় কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন একাধিক ছোট রাস্তা সংস্কার দরকার। নিকাশি ব্যবস্থার হাল খুবই খারাপ। সেকারণে বর্ষায় নানা সমস্যা হয়। আঁকমুড়া এলাকায় সেতু প্রয়োজন। গ্রামে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও করতে হবে। শীর্ষা পঞ্চায়েতের শিল্প পরিকাঠামোর সঞ্চালক অনুপ রায় বলেন, মানুষের সমস্যা তাড়াতাড়ি সমাধানের চেষ্টা চলছে। নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি খুবই প্রয়োজন। সেবিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। এই পঞ্চায়েত সবসময় মানুষের পাশে থাকবে।