মুল্লানপুর: ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের পর বিদায় জানিয়েছিলেন একদিনের ক্রিকেটকে। কুড়ি ওভারের ধুমধাড়াক্কা থেকেও অবসর নেন গতবছর টি-২০ কাপযুদ্ধের ফাইনালে ভারতের কাছে নাটকীয় পরাজয়ের পর। অবশ্য অবসর ভেঙে কুইন্টন ডি’কক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন গত অক্টোবরে। কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে আগের মতোই বিধ্বংসী মেজাজে তিনি। বিশাখাপনমে সিরিজের শেষ ওডিআই’তে দক্ষিণ আফ্রিকা হারলেও লড়াকু সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন ডি’কক। বৃহস্পতিবার মুল্লানপুরে দ্বিতীয় টি-২০’তে বাঁহাতি ওপেনারের ৪৬ বলে ৯০ রানই গড়ে দেয় প্রোটিয়াদের জয়ের ভিত।
সফল কামব্যাক প্রসঙ্গে ম্যাচের সেরা ডি’কক বলেছেন, ‘অবসরের আগে দলকে জেতানোর খিদেটাই হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিল। ক্রিকেটের থেকে দূরে থাকার সময়ে হারিয়ে ফেলা সেই খিদে ফিরে পেয়েছি। এখন রীতিমতো উজ্জীবিত লাগছে নিজেকে। ঝাঁপিয়ে পড়ছি দলের জয়ের জন্য।’ এরপর ব্যাখ্যা করে তাঁর মন্তব্য, ‘একই দলের বিরুদ্ধে বারবার খেলতে আগে বিরক্ত লাগত। ঘুম থেকে ওঠাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। ধরা যাক, ভারতের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ রয়েছে। আমার তা একঘেয়ে লাগত। নতুন চ্যালেঞ্জ চাইতাম। কিন্তু তা পেতাম না। সেজন্যই অবসর নিয়েছিলোম। তারপরই বুঝতে পারি যে, ঠিক কী হারিয়েছি। আসলে হাতছাড়া হলেই কোনও কিছুর প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করা যায়। এখন নতুন এনার্জি পাই মনে। লম্বা কেরিয়ার গড়ার তাগিদও অনুভব করি।’
কোচ শুকরি কনরাডকে সেকথা বলেওছেন ডি’কক। তাঁর কথায়, ‘আমার এই ব্রেকটা দরকার ছিল। ক্রমাগত ক্রিকেটের ফলে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম। অবসর নেওয়ার ফলেই কেরিয়ারকে টেনে নিয়ে চলার ইচ্ছে ফিরেছে। মানসিকভাবে নিজেকে তরতাজা লাগছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে খেলছি, তাই প্রত্যাবর্তনের পর মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়নি। কুড়ি ওভারের ক্রিকেট যতই বদলে যাক, তার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে সমস্যায় পড়িনি।’ তবে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার কোনও ইচ্ছা নেই ৩২ বছর বয়সি তারকার। লাল বল নয়, স্রেফ সাদা বলের ক্রিকেটেই খেলবেন তিনি।