সংবাদদাতা, কান্দি: রাস্তার পাশে অবৈধভাবে বালি মজুত করে রাখা হয়েছে। সেই বালি কারও চোখে উড়ে পড়ছে। কারও আবার বালিতে বাইকের চাকা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটছে। কান্দি মহকুমাজুড়ে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। এনিয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগও তুলছেন তারা। কান্দির মহকুমা শাসক উৎকর্ষ সিং জানিয়েছেন, পুলিসের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কান্দি মহকুমার বিভিন্ন খাদান থেকে ব্যাপকভাবে বালি তোলা হচ্ছে। ওই বালি যেমন বাইরে যাচ্ছে। তেমনই স্থানীয়ভাবে অনেকে বালি মজুত করে ব্যবসাও চালাচ্ছেন। এইসময় অল্প দরে কিনে বালি মজুত করে বর্ষায় চড়া দরে বিক্রি করাই ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। আর এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বালি মজুতের জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে মহকুমার বিভিন্ন রাজ্য সড়কগুলি।
বহরমপুর-সুলতানপুর ১১ নম্বর রাজ্য সড়কের কান্দি থানার পুরন্দরপুর থেকে জীবন্তি পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে এভাবে বালি মজুত করা হয়েছে। কোথাও আবার মজুত বালি পাহাড়ের চেহারা নিয়েছে। আবার ওই রাস্তার বড়ঞা থানার কুলি থেকে কুমরাই পর্যন্ত এক নাগাড়ে বালির স্তূপ দেখা গিয়েছে। খড়গ্রাম থানা এলাকায় ফরাক্কা হলদিয়া বাদশাহি সড়কের পাশেও একই অবস্থা। শেরপুর জীবন্তি রাস্তার পাশে অন্তত ১৫টি জায়গায় অবৈধভাবে বালি মজুত করা হয়েছে বলে দাবি। খড়গ্রাম-বিষ্ণুপুর রাজ্য সড়কের পারুলিয়ার কাছেও বালি মজুত করা হয়েছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে এভাবে বালি মজুত করার জন্য বাইক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। কান্দি থানার পুরন্দরপুর, মনোহরপুর ও গোকর্ণ পাওয়ার হাউসমোড়ের কাছে সম্প্রতি বাইক দুর্ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। বড়ঞা থানার কুলি গ্রামের কাছেও দিনদিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। কুলিগ্রামের বাসিন্দা মুকুলেশ চৌধুরী বলেন, রাস্তার পাশে এমনভাবে বালি মজুত করে ব্যবসা চলছে। তাতে প্রায়ই বিপদ ঘটছে। মজুত বালি রাস্তার উপর উঠে আসছে। ফলে হাওয়া দিলেই চোখে বালি উড়ে পড়ছে। বাইক দুর্ঘটনাও ঘটছে। বড়ঞা গ্রামীণ হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, গত কয়েকদিনে অন্তত ৩০টি বাইক দুর্ঘটনার রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ বালিতে বাইকে চাকা পিছলে গিয়েছিল।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও কান্দির বিধায়ক তথা তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশ রয়েছে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি এফআইআর করতে পারে। প্রশাসনিকভাবে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার চেষ্টা করা হবে। কুলি গ্রামের বালি ব্যবসায়ী তাসির শেখ বলেন, রাস্তার পাশে বালি রাখলে খদ্দের পেতে সুবিধা হয়। তাই এভাবে বালি মজুত করা হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র