Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে অবৈধভাবে চলা ল্যাব সিল, নার্সিংহোমেও অভিযান

রামপুরহাটে অবৈধ ল্যাব ও নার্সিংহোম সিল করল প্রশাসন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ। বিস্তারিত পড়ুন।

রামপুরহাটে অবৈধভাবে চলা ল্যাব সিল, নার্সিংহোমেও অভিযান
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বুধবার রামপুরহাট এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা পরিকাঠামোহীন নার্সিংহোম এবং অবৈধ ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধে অভিযানে নামে প্রশাসন। অভিযানের সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। অভিযান টিমের নেতৃত্বে ছিলেন স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ শোভন দে, এসডিও অশ্বিন বি রাঠোর সহ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটরা। তাঁরা অবৈধভাবে চলা ছ’টি ল্যাবরেটরি সিল করে দেন। মালিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসডিও। 

Advertisement

বীরভূম জেলায় খাতায়কলমে ৭৮টি অনুমোদিত নার্সিংহোম এবং ৫২২টি ল্যাবরেটরি থাকলেও বাস্তবে রামপুরহাটের অলিগলিতে তার চেয়ে অনেক বেশি গজিয়ে উঠেছে। যার হিসাব স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছেও নেই। যথাযথ পরিকঠামো ছাড়াই তা রমরমিয়ে চলছে। অভিযোগ, অধিকাংশ ল্যাবের স্বাস্থ্যদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। কোনোটির আবার লাইসেন্স থাকলেও নেই দমকল বা পরিবেশ দপ্তরের এনওসি। চিকিৎসকদের সই করা ফাঁকা প্যাড ল্যাবে রেখে দেওয়া হয়। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ছাড়াই, নিম্নমানের কিট ব্যবহার করে মনগড়া রিপোর্ট লিখে রোগীদের হাতে ধরানো হচ্ছে। প্রশিক্ষিত নার্স, প্যারা-মেডিক্যাল কর্মী বা স্থায়ী ডাক্তার ছাড়াই বছরের পর বছর চলছে এই ব্যবসা। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে দালাল চক্র ও কমিশন সিস্টেম সক্রিয় রয়েছে। এর শিকার হচ্ছে গরিব মানুষজন। ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসা বিভ্রাটের মুখে পড়ছে। আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। 
তিন বছর আগে বীরভূমের সিএমওএইচের হাত থেকে নজরদারির দায়িত্ব রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার উপর দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি বলে অভিযোগ। বহু ওষুধ দোকানেও রমরমিয়ে চলছে  ল্যাব। মহকুমা ল্যাব অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৌমেন দত্ত একথা স্বীকারও করেছেন। 
পরিকাঠামো ছাড়াই বহু নার্সিংহোম চলছে। গত ২১মে এই সংক্রান্ত খবর ‘বর্তমান’এ প্রকাশিত হয়। তারপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এদিন শহর ও মেডিকেল কলেজ লাগোয়া ক্যানেলপাড়ের ৬টি ল্যাব সিল করে দেওয়া হয়। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিমেষের মধ্যে বহু ল্যাবরেটরির মালিক সাইনেবোর্ড খুলে সাটার নামিয়ে সরে যায়। সিএমওইচ বলেন, অভিযানে নেমে অবৈধভাবে চলা ল্যাবগুলি বন্ধ করছি। এর আগে ক্যাম্প করে বেআইনি উপায়ে ল্যাব ও নার্সিংহোম না চালানোর জন্য সচেতন করা হয়েছিল। এরপরও তারা সচেতন না হলে সাটার নামিয়ে সিল করে দেওয়া হবে। এসডিও বলেন, ল্যাবগুলি সিল করে দেওয়া হচ্ছে। এগুলি চালাতে চাইলে আবেদন করে লাইসেন্স নিতে হবে। নতুবা অ্যাকশন নেওয়া হবে। যেগুলি সিল করে দেওয়া হচ্ছে সেগুলিকে ক্লিনিক্যাল এসস্টাবলিস্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, এক লক্ষ থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। 
বিজেপির বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, শুধু অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিল করলেই হবে না। কাদের মদতে বছরের পর বছর নিয়মের তোয়াক্কা না করে কোটি কোটি টাকার বেআইনি কারবার চলছে, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।  অবৈধ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি সিল করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ