নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মায়াপুরের ইসকন মন্দিরকে কেন্দ্র করে বেআইনি টোটোর ব্যবসা! যার জেরে নাজেহাল সাধারণ মানুষ, তীর্থযাত্রী থেকে পর্যটকরা। অভিযোগ, ইসকন মন্দির চত্বরে দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে রেজিস্ট্রেশনহীন টোটো। রাজ্য পরিবহণ দপ্তর থেকে শুরু করে পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে ঘটনায় সরাসরি নদীয়ার জেলা শাসকের কাছে হলফনামা আকারে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।
মামলাকারী অনসুল আগরওয়ালের অভিযোগ, মায়াপুর ইসকন মন্দির চত্বরে এই বেআইনি টোটোর জেরে যানজট নিত্য দিনের ঘটনা। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, এই বেআইনি টোটোর দাপটে অ্যাম্বুল্যান্স, দমকলের গাড়ির মত জরুরি পরিষেবার যানও ছাড় পাচ্ছে না। পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে চড়া ভাড়া হাঁকানোর ঘটনা তো রয়েছেই। বিদেশি হলে তো কথাই নেই! প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, এর আগে বেআইনি টোটোকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছিল, ১৯৮৯ সালের মোটর ভেহিকেল রুল অনুযায়ী সমস্ত টোটোকে আরটিএ রেজিস্টার্ড হতে হবে। তিন মাসের বেশি রাজ্যে কোনো বেআইনি টোটা চলবে না। এই নির্দেশের পর রাজ্যের আবেদনের ভিত্তিতে বেআইনি টোটোর মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু তারপরও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। দিনের পর দিন বেআইনি টোটোর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে বলে দাবি করেন তিনি। যদিও ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে শুনানিতে জানিয়ে দেওয়া হয়, মামলায় মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এর সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোনো যোগ নেই। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, অভিযোগের প্রেক্ষিতে নদীয়ার জেলাশাসকের কাছে পুর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের ডিরেক্টরকেও হলফনামা আকারে রিপোর্ট দিতে বলেছে আদালত। ২৩ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি।