Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়ায় অবৈধ ‘টার্গেট’ লটারির রমরমা কারবার, সর্বস্বান্ত বহু মানুষ

পুরুলিয়া শহরে রমরমিয়ে চলছে ‘টার্গেট’ নামে অবৈধ লটারির কারবার। প্রতিদিন তিনবার ওই লটারি খেলা হচ্ছে।

পুরুলিয়ায় অবৈধ ‘টার্গেট’ লটারির রমরমা কারবার, সর্বস্বান্ত বহু মানুষ
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া শহরে রমরমিয়ে চলছে ‘টার্গেট’ নামে অবৈধ লটারির কারবার। প্রতিদিন তিনবার ওই লটারি খেলা হচ্ছে। প্রকাশ্যেই দিনের পর দিন এই অবৈধ কারবার চললেও উদাসীন প্রশাসন। লটারির নেশায় সর্বস্ব খোয়াচ্ছে মানুষ। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, পুরুলিয়া শহরের আনাচে কানাচে চলছে ওই অবৈধ লটারির কারবার। লোকমুখে ‘টার্গেট’ নামে পরিচিত হলেও খাতায় কলমে কোনও নামই নেই ওই লটারির। পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট লটারির কাউন্টারগুলির একাংশথেকেই সরকারির লটারির পাশাপাশি বিক্রি করা হয় এই অবৈধ লটারি। আরও জানা গিয়েছে, ছোট এক টুকরো কাগজের মাধ্যমে ওই লটারির টিকিট বিক্রি করা হয়। কখনও সাদা আবার কখনও রঙিন টুকরো কাগজে হাতে লেখা থাকে লটারির নম্বর। লটারি বিক্রেতাদের সূত্রে আরও জানাগিয়েছে,  শূন্য থেকে ৯ পর্যন্ত যেকোনও একটি পছন্দের সংখ্যা ক্রেতা বলে দেন। তারপর সেই সংখ্যার কতগুলি টিকিট ক্রেতা কিনতে চাইছেন সেই সংখ্যাও লেখা থাকে ওই টুকরো কাগজের মধ্যে। সেই সঙ্গে থাকে বিক্রেতার ছোট কোনও স্বাক্ষর,কোথাও আবার কোনও নির্দিষ্ট চিহ্ন। আরও জানাগিয়েছে, একটি লটারির টিকিটের মূল্য ১১ টাকা। ওই সংখ্যা মিলে গেলে পাওয়া যাবে ১০০ টাকা। কেউ একটি সংখ্যার একাধিক লটারি,কেউ আবার অনেক সময় শূন্য থেকে ৯ এর মধ্যে একাধিক পছন্দের সংখ্যার লটারিও কিনে থাকে। আরও জানাগিয়েছে, প্রতিদিন বৈধ একটি লটারি সংস্থার লটারির ফলাফলের প্রথম পুরস্কারের নম্বরের শেষ সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই এই ‘টার্গেট’ লটারি চলে। ফলে আলাদা করে কোনও লটারি খেলারও দরকার হয় না উদ্যোক্তাদের। গোটা লটারির কারবারই চলে একটি সংখ্যার ওপরেই। পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে শতাধিক জায়গা থেকে ওই টার্গেট লটারি বিক্রি হয়। ছোট লটারির কাউন্টারগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য শহরজুড়ে রয়েছে একাধিক বড় মাথা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কার কাউন্টারে কোন সংখ্যার কতগুলি টিকিট বিক্রি হয়েছে তা মোবাইলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রকদের কাছে পৌছে যায়। 
তারাই পুরস্কার মূল্য দিয়ে থাকেন। ক্রেতারা একটি সংখ্যা কেউ ৫০টি,কেউ আবার শতাধিক কিনে থাকেন। কোনও কোনও ক্রেতা আবার একই সংখ্যা এক হাজারটি কেনার নজিরও রয়েছে। প্রতিদিনই শহরে কয়েকলক্ষ টাকার অবৈধ কারবার চলছে পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগাতেই। এবিষয়ে পুরুলিয়া সদর থানার আইসির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাঁরও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও কোনও জবাবা দেননি এসপি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ