Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া স্টেশনের জন আহার-এ বেআইনি ‘সাব লিজ’, অভিযুক্ত ম্যানেজার সহ ৩

হাওড়া স্টেশনে আইআরসিটিসি পরিচালিত রেস্তরাঁ ‘জন আহার’এর সাব লিজ পাইয়ে দেবার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

হাওড়া স্টেশনের জন আহার-এ বেআইনি ‘সাব লিজ’, অভিযুক্ত ম্যানেজার সহ ৩
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: হাওড়া স্টেশনে আইআরসিটিসি পরিচালিত রেস্তরাঁ ‘জন আহার’এর সাব লিজ পাইয়ে দেবার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ওই রেস্তরাঁরই এক ম্যানেজার ও রেলের ক্যান্টিনে কর্মরত দুই  কর্মীর। হাওড়া আদালতের নির্দেশে এফআইআর রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জিআরপি। আইআরটিসির অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে এই সাব লিজ দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জেনেছে তারা।

Advertisement

রেল পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়ার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা জন আহার রেস্তরাঁর সাব লিজের জন্য চেষ্টা করছিলেন। রেলের কোনো  কর্মীকে ম্যানেজ করলে এই লিজ পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানতে পারেন। অভিযোগকারিনী মহিলার ভাইয়ের পরিচিত একজন রেলের ক্যান্টিনে কাজ করেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানান, এই রেস্তরাঁর সাব লিজ পাওয়ানোর ক্ষেত্রে তিনি সাহায্য করবেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযোগকারিনী মহিলা ও তাঁর ভাই শিয়ালদহ স্টেশনে জন আহারের ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রথমে ঠিক হয়, ওই রেস্তরাঁ তাঁদের সাব লিজে দেওয়া হবে। এরজন্য একটি চুক্তি করে দু’পক্ষ।  দু’লক্ষের বেশি টাকা তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। গোটা বিষয়টি আইআরটিসিকে না জানিয়ে করা হয়েছে বলে জেনেছে রেল পুলিশ। ওই সংস্থার কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েই অভিযোগকারিনীকে বলা হয় শিয়ালদহ জন আহার কেন্দ্র চালাতে। তিনি কিছুদিন চালানও। কিন্তু সেটি ভালো না চলায় জন আহারটি ফিরিয়ে দেন। এরপর তাঁকে বলা হয়, হাওড়া স্টেশনে জন আহার রেস্তরাঁটি তাঁকে সাব লিজে দেওয়া হবে।  হাওড়া স্টেশনে ওই রেস্তরাঁয় তাঁকে ২০২৫ সালের মে মাস নাগাদ ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে ম্যানেজারের সঙ্গে অভিযোগকারিনী বৈঠক করেন।  ঘটনাচক্রে হাওড়া-শিয়ালদহ দুটি স্টেশনের জন আহার কেন্দ্রের মালিক একই ব্যক্তি। ওই মহিলাকে বলা হয়, হাওড়া স্টেশনের এই রেস্তরাঁ তাঁকে চালাতে দেওয়া হবে। সাব লিজের জন্য তাঁর কাছ থেকে আরও আড়াই লক্ষের বেশি টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রেল পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৫সালের আগাস্ট-সেপ্টম্বরের মধ্যে সমস্ত টাকার লেনদেন হয় অনলাইনে।  এরপরেও তিনি হাওড়া স্টেশনে জন আহার কেন্দ্র চালানোর সাব লিজ পাননি। বারবার বলার পরেও টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে,  হাওড়া জিআরপি চলতি মাসের ২০ তারিখ প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গের কেস রুজু করে। এফআইআরে জন আহার কেন্দ্রের ম্যানেজার সহ তিনজনের নাম রয়েছে।
রেল পুলিশ তদন্তে নেমে জেনেছে, জন আহার এভাবে সাব লিজ দেওয়া যায়না। লাইসেন্স প্রাপ্ত সংস্থাকে এই ক্ষমতাকে দেওয়া হয়নি। তারপরেও কীভাবে করা হচ্ছিল তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনা জানতেঅভিযুক্তকে নোটিস পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে বলে  খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ