নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: টুলু মণ্ডল কাণ্ড এখনও টাটকা মানুষের মনে। অবৈধ পাথর কারবার করে কীভাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বীরভূমের পাথর সম্রাট, এনিয়ে যখন রাজ্য জুড়ে শোরগোল তখনও শিল্পাঞ্চলে রমরমিয়ে চলছে অবৈধ পাথরের পাচার। দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে এই কারবার চললেও অবশেষে ‘অ্যাকাশন মুডে’ পুলিশ।
জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে আকষ্মিক অভিযান চালিয়ে তিনটি দৈত্যাকার ডাম্পার আটক করে জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ। সেখান থেকে কোনো বৈধ চালান মেলেনি। গাড়িগুলিকে বাজেয়াপ্ত করে চুরুলিয়া ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, অবৈধ পাথর কারবারের অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছি।
জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া অবৈধ কারবারের স্বর্গরাজ বলা যায়। এখানে যেমন অবৈধ কয়লা ও বালির কারবার করে বহু মাফিয়া ফুলে ফেঁপে উঠেছে, তেমনই বহু সরকারি আধিকারিকও আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। তৃণমূল আমলেও এখানে পাথর কারবার নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ ছিল। যা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। সরকার বদলের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দিয়ে দেন দুনীর্তিতে ‘জিরো টলারেন্স’। এরপরই বীরভূমে টুলু মণ্ডলের অবৈধ কারবার কার্যত গুটিয়ে দেয় রাজ্য পুলিশ। বিপুল যে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল তাও কিছুটা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে রাজ্য সরকার।
বীরভূমে যখন পাথর কারবার নিয়ে স্বচ্ছতার বার্তা তখন উল্টো চিত্র ধরা পড়েছে জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়ায়। অভিযোগ, চুরুলিয়ার বাগুলি এলাকা থেকে একসময়ে একচেটিয়া অবৈধ পাথরের কারবার করে গিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ট রানিগঞ্জের এক ব্যবসায়ী। বিজেপি সরকারে আসার পর সিআইডি তাকে গ্রেপ্তারও করে। জানা গিয়েছে, এখনও সেই খাদান থেকেই নিয়ম করে প্রতিদিন পাথর লুট হচ্ছে। রাস্তা, বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত এই কালো পাথর বোঝাই হয়ে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি ডাম্পারে পাচার হয়। তবে দেরিতে হলেও বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের। এরপরই তিনটি গাড়ি আটক হয়েছে। যদিও স্থানীয় এক সূত্রের দাবি, তৃণমূলের মতো বিজেপির আমলেও এই কারবার নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। তার ফলশ্রুতিতেই পুলিশের এই তৎপরতা। বিজেপি কৃষাণ মোর্চার জেলা সভাপতি রমেশ ঘোষ বলেন, আমরা তৃণমূল, সিপিএমের উপর কোনো অত্যাচার করিনি। সেই সুযোগে তাঁরা আবার এলাকায় অবৈধ কারবার চালুর চেষ্টা করছে। বিজেপিই বলেছে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।