অলিগলিতে বেআইনি দোকান, ধুঁকছে বাজি বাজারগুলি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশই সার, রাজ্যে এখনও অপ্রতুল গ্রিন ক্র্যাকার্স
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা শহরে বাজি বাজার বসেছে চারটি। এছাড়াও কলকাতা ও শহরতলির অলিগলিতে বসেছে অসংখ্য বাজির দোকান। এ অবস্থায় পরিবেশকর্মীদের প্রশ্ন, অলিগলির দোকানগুলিতে যে বাজি বিক্রি হচ্ছে, তা কি সবুজ বাজি? এছাড়াও প্রশ্ন, বাজি বাজারের  সব বাজি কি সবুজ? সেই পরীক্ষার নথি কি এখনও এসে পৌঁছেছে? আর বাজি বাজারের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পাড়ায় পাড়ায় বাজির দোকানের জন্য তাদের ব্যবসা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। পুলিশ বলছে, নজরদারি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘পরিবেশবান্ধব বাজি ফাটান। টুনি বালবের পাশাপাশি কুম্ভকারদের জন্য মাটির প্রদীপও কিনতে হবে। পরিবেশ কীভাবে বদলে গিয়েছে দেখেছেন? আমরা নিজেরাই পরিবেশ নষ্ট করেছি।’

Advertisement

পরিবেশ কর্মী নব দত্ত বলেন, অলিগলিতে বাজির দোকান বসেছে। অনলাইনেও বাজি বিক্রি হচ্ছে। এই বাজিগুলি কি আদৌ বৈধ? তার হিসাব কে দেবে? বাজি বাজার ছাড়া বাকি বাজির দোকান তো অবৈধ। তাহলে এগুলো চলছে কীভাবে? এখন বলা হয়েছে, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো যাবে না। তাহলে তো কলকাতা শহরে ময়দান ছাড়া কোথাও বাজি পোড়ানো যায় না। এগুলো প্রহসন চলছে। টালা বাজি বাজারের অন্যতম উদ্যোক্তা শুভঙ্কর মান্না বলেন, দু’টো কারণে আমাদের বাজি বাজারের বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছে। প্রায় অর্ধেক বলা যায়। এক, যাঁর বাড়ির সামনেই বাজির দোকান বসেছে, সেখান থেকেই কিনছেন। দুই, পরিবেশ দূষণের জন্য বাজিকে দায়ি করা হচ্ছে। তার ফলে বাচ্চাদের মধ্যে বাজি কেনার প্রবণতা একেবারে কমে গিয়েছে। একই কথা বলেন কালীকাপুর বাজি বাজারের উদ্যোক্তা শ্যামাপ্রসাদ মজুমদার। তিনি বলেন, এই বছর বাজি বাজারের বিক্রি কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। বাড়ির সামনে যদি বাজির দোকান থাকে তাহলে লোকজন কেন গাড়ি ভাড়া করে বাজারে আসতে যাবেন।  গলির বাজির দোকান নিয়ে কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, শহরজুড়ে নাকা চেকিং চলছে। তাতে এখনও পর্যন্ত ৫০০ কেজি অবৈধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সব থানাকে বলা হয়েছে এলাকায় ছোটো দোকানগুলিতে নজরদারি চালানোর জন্য।  নিজস্ব চিত্র