Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আন্দুল রোডের দু’ধারে কাটা তেলের সাম্রাজ্য! জেনেও নীরব প্রশাসন, অভিযোগ স্থানীয়দের

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন পরিত্যক্ত গুমটি। কিন্তু ভিতরে মজুত থরে থরে ড্রাম।

আন্দুল রোডের দু’ধারে কাটা তেলের সাম্রাজ্য! জেনেও নীরব প্রশাসন, অভিযোগ স্থানীয়দের
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন পরিত্যক্ত গুমটি। কিন্তু ভিতরে মজুত থরে থরে ড্রাম। সেগুলি বেআইনি পেট্রল-ডিজেলে ভর্তি। হাওড়ার আন্দুল রোডের মৌড়িগ্রাম এলাকার সেই ‘গোপন সাম্রাজ্য’ আরও একবার সামনে এল মঙ্গলবারের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর। বাইক সারাইয়ের গ্যারাজে আগুন লাগলে পুড়ে মৃত্যু হয় গ্যারাজ মালিকের। এই আগুনের আঁচেই ফাঁস হয়ে গেল বহু বছর ধরে চলা কাটা তেলের কারবার। গ্যারেজের আড়ালেই ব্যবসা চলত কাটা তেলের। ঘটনার পর থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, সব দেখেও নীরব পুলিশের কর্তারা।

Advertisement

আন্দুল রোডের দু’ধারের পরিত্যক্ত গুমটিগুলি যেন অঘোষিত তেল গুদাম। পাঁচপাড়া পেট্রল পাম্প থেকে মৌড়িগ্রাম স্টেশন মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬০-৭০টি এমন গুমটি রয়েছে। বুধবার দুপুরে হালদারপাড়া এলাকার একটি গুমটির পিছনে উঁকি দিতেই দেখা গেল, ৩০ লিটারের ১০-১৫টি ড্রামে ভর্তি পেট্রল-ডিজেল। ড্রামগুলির উপর ধুলোর আস্তরণ পড়ে গিয়েছে। এই এলাকায় রয়েছে একাধিক পেট্রল পাম্প। সেখান থেকে জ্বালানি না কিনে অনেকেই এইসব গুমটি থেকে তেল কেনেন। কারণ এই বেআইনি তেল মেলে লিটার পিছু ৯০ টাকায়! বাস, বাইক, গাড়ি— তেল কিনতে এইসব গুমটিতে হাজির হয় সকলে।
কীভাবে চলে এই কারবার? স্থানীয় সূত্র বলছে, মৌড়িগ্রাম তেল ডিপো থেকে ট্যাংকার বের হওয়ার পর কয়েকটি নিয়ে যাওয়া হয় নির্জন এলাকায়। সেখানে হাজির হয় ‘তেল কাটার এক্সপার্টরা’। ট্যাংকারের নীচের সিল কেটে বা উপরের ঢাকনা খুলে তেল বের করে তারা। তারপর জার ভর্তি হয়ে গেলে ওই ট্যাংকারকে কোনও গ্যারাজে ঢুকিয়ে ফের ঝালাই করে সিল জুড়ে দেওয়া হয়। ড্রাইভার-খালাসিদের সঙ্গে কাটা তেলের কারবারিদের যোগসাজশেই এই কাজ চলে। কাটা তেল লিটার পিছু ৭০-৮০ টাকায় কেনে তারা। তারপর বড় জারে ভরে সাইকেলের দু’পাশে ঝুলিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয় গুমটিতে। সেই তেলই প্রতি লিটার ১০ টাকা লাভে বিক্রি করে কারবারিরা। একই পদ্ধতিতে কেরোসিন তেলের কারবারও চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ইতিপূর্বে এমন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক তেল কারবারি। কিছুদিন ঠান্ডা থাকলেও গত দু’বছরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এই তেল-মাফিয়া চক্র। রাতের অন্ধকারে নয়, এখন দিনে-দুপুরে চলছে ট্যাংকার থেকে তেল চুরির কাজ। হাজার হাজার লিটার দাহ্য তরল মজুত থাকায় যে কোনও সময় বড়সড় বিপত্তির আশঙ্কায় থাকেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব কিছু চোখের সামনে ঘটে, তবু কেউ দেখেও দেখে না। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘বেআইনি তেলের কারবার নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ