নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশন সংলগ্ন আইওসি গেট এলাকা যেন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেকোনও দিন মজুত করে রাখা চোরাই তেলের জেরে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। বুধবার রাতে সেই আশঙ্কার খণ্ডচিত্র ধরা পড়ল ওই এলাকায়। চোরাই তেলের গুদামে আগুন লেগে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং দমকলের তিনটি ইঞ্জিনের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ড আগামীতে হতে যাওয়া বড়সড় দুর্ঘটনার ‘ট্রেলার’ ছিল। দ্রুত পুলিস প্রশাসন পদক্ষেপ না করলে ভয়ানক পরিস্থিত হতে পারে। যদিও পুলিসের দাবি, ওই এলাকাতে লাগাতার নজরদারি রাখা হচ্ছে। এই ধরনের তেল মজুত করে যারা ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক বার অভিযান চালানো হয়েছে, আগামীতেও হবে। এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা ওই ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছি। ওই এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।বুধবার রাতে আইওসি গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি গুদামে আগুন লাগায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। ওই গুদামে প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ তেল মজুত করা ছিল। বিষয়টি বুঝতে পারার পরেই দ্রুত স্থানীয়রা নিউ জলপাইগুড়ি থানা এবং দমকলে খবর দেন। খবর পেয়ে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পাশাপাশি স্থানীয়রাও আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। যদিও দমকলের গাড়ি পৌঁছনোর আগেই ওই গুদাম পুরোপুরিভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এরপরই দমকল এসে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে দমকলের প্রাথমিক অনুমান, ওই গুদামে শর্ট সার্কিটের জন্য আগুন লেগেছিল। যদিও ওই গুদামে এত বেশি পরিমাণ তেল কীভাবে মজুত ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ওই এলাকায় দিনের পর দিন আইওসি’র ট্যাঙ্কার থেকে তেল চুরি করে তা মজুত করে রাখা হয়। পরবর্তীকালে তা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। এই ব্যবসা দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও পুলিস প্রশাসনের তরফে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।



