Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থার পাইপ লাইনের পাশে দাহ্য বস্তুর বেআইনি গোডাউন, ব্যবস্থা নিতে পুলিস ও এইচডিএ-কে চিঠি

রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থার পাইপ লাইনের পাশে দাহ্য বস্তুর বেআইনি গোডাউন, ব্যবস্থা নিতে পুলিস ও এইচডিএ-কে চিঠি
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: এইচপিএল লিঙ্ক রোডে অতিদাহ্য গ্যাস পাইপ লাইনের আশপাশ থেকে দখলদার সরাতে সোমবার হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এইচডিএ) ও পুলিসকে চিঠি দিয়েছে ভারত পেট্রলিয়াম (বিপিসিএল)। ওই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার অভিযোগ, গ্যাস পাইপ লাইনের পাশেই স্ক্র্যাপ মেটিরিয়ালের গোডাউন তৈরি হয়েছে। ওই স্ক্র্যাপের মধ্যে নানা ধরনের দাহ্য রাসায়নিক ও প্লাস্টিক রয়েছে। এতে ওই এলাকা কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। কোনওভাবে আগুন লাগলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, এই মর্মে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে এইচডিএ ও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু অগ্নিকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ নয়, বিপিসিএলের পাইপ লাইন থেকে বিভিন্ন সরঞ্জামও প্রায়ই চুরি হচ্ছে বলে একাধিকবার হলদিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিসের চোখের সামনে কীভাবে চুরি হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন স্থানীয়দের। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, সিটি সেন্টারের অদূরে এইচপিএল লিঙ্ক রোডের পাশে বিপিসিএলের বিশাল ইমপোর্ট এলপিজি টার্মিনাল রয়েছে। হলদিয়া বন্দর থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে টার্মিনালে আসে লিকুইড পেট্রলিয়াম গ্যাস। বিদেশ থেকে ওই গ্যাস জাহাজে আমদানি করা হয় বন্দরের। বন্দরের ৩ নম্বর অয়েল জেটি থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস এনে জমা করা হয় স্টোরে। 
এজন্য প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইন রয়েছে। ওই লাইনের কিছুটা অংশ জাতীয় সড়কের নীচে পাতা রয়েছে। অভিযোগ, সিটি সেন্টার এলাকা থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশে রেনুকা সুগার কারখানার আশপাশে রমরমিয়ে স্ক্র্যাপ মেটিরিয়ালের ব্যবসা চলছে। এলপিজি গ্যাসের জন্য প্রপেন ও বিউটেনের দু›টি পাইপ লাইন রয়েছে। দু›টি লাইনের নীচে ও পাশে কার্যত দখল করে ব্যবসা চলছে। বেশিরভাগই বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কারখানার স্ক্র্যাপ এবং প্লাস্টিকের ড্রাম ডাঁই হয়ে রয়েছে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু গ্যাস পাইপ লাইনের জন্য নয়, শহরে প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। পুলিস ও প্রশাসনের চোখের সামনে একদশক ধরে রমরমিয়ে স্ক্র্যাপের পাহাড় তৈরি হয়েছে। দাহ্য বস্তুর পাশাপাশি ব্যাপক দূষণ ছড়ালেও দূষণ পর্ষদ, পুর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার বলে অভিযোগ। এইচডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচডিএর জমির উপর দিয়েই ওই পাইপ লাইন গিয়েছে। সোমবার বিপিসিএলের আধিকারিকরা এইচডিএর চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় কর ও চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার কোন্থাম সুধীরের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানান। তাঁরা ছবি সহ একটি চিঠি দিয়েছেন এইচডিএকে। চেয়ারম্যান বিষয়টি ভবানীপুর থানার নজরে আনেন। 
এইচডিএর চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার বলেন, অবৈধ দখলদাররা বিপিসিএল তাদের গ্যাস পাইপ লাইনের কাছে বিপজ্জনকভাবে ব্যবসা করছে। তাদের সরানোর আবেদন করেছে। মঙ্গলবার বিপিসিএল ও পুলিস প্রশাসনকে নিয়ে এইচডিএ মিটিং করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ