সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাংলার ঝাড়খণ্ড সীমানায় বারংবার বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা। পুলিসি নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলছেন তাঁরা। এদিকে নলহাটিতে বিস্ফোরক উদ্ধারের পর একদিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। অবৈধ বিস্ফোরকের কারবারের জন্য বার বার ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া বাংলার গ্রামগুলিকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে। গ্রামগুলিতে পুলিসি নজরদারি কম হওয়ার কারণেই অবৈধ বিস্ফোরকের রমরমা বাড়ছে। ২০১৭ সালে জেলায় ২১৭টি খাদানের মধ্যে ২১১টিকেই বন্ধের নির্দেশ দেয় পরিবেশ আদালত। কিন্তু কাগজ কলমে সেগুলি বন্ধ দেখালেও অধিকাংশই চালু রয়েছে বলে অভিযোগ। অবৈধ খাদানে বৈধ কারবারিরা বিস্ফোরক সরবরাহ করে না। ফলে অবৈধ বিস্ফোরকের চাহিদা তুঙ্গে। সেখান থেকে বোমা তৈরির উপকরণ খুব সহজেই চলে আসে দুষ্কৃতীদের হাতে। এর আগে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া রামপুরহাট থানার রদিপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ১২ হাজার জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করে পুলিস। তারই মধ্যে নলহাটির মধুপুরের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া নলহাটির চন্দননগর গ্রামের পরিত্যক্ত পাথর কল থেকে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। সেই সময় ২১৪ পেটি ভর্তি ৪২ হাজার ৮০০ পিস জিলেটিন স্টিক, ১৪ পেটি অর্থাৎ ২১ হাজার ডিটোনেটর ও ১৪ বস্তা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার হয়েছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রামপুরহাটের ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া হস্তিকাঁদা থেকে একইভাবে উদ্ধার হয় বিস্ফোরক। চলতি বছরের শুরুতেই হস্তিকাঁদা জঙ্গলে একটি গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় বিপুল বিস্ফোরক। সেই ঘটনায় নলহাটির হরিদাসপুরের বাসিন্দা শাহে আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। যদিও দ্রুত জামিন পেয়ে যায়। ফের বুধবার নলহাটির ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া পাসিনালা গ্রামের দু’টি পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করে জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। যদিও একদিন পেরিয়ে গেলেও মূলচক্রীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। স্থানীয় একটি সূত্র জানাচ্ছে, তেলেঙ্গানা থেকে ঝাড়খণ্ড হয়ে এ রাজ্যে বিস্ফোরক আসছে। এর পিছনে আন্তঃরাজ্য বিস্ফোরক পাচার চক্রের হাত রয়েছে। অবৈধ কারবার সম্পর্কে প্রশাসনও জানে। ‘অদৃশ্য সেটিং’ এই কারবারের রমরমার পিছনে। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই কারবার চলছে। যে কোনও সময়ে বড়সড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। কিছুদিন আগেই খয়রাশোলে মজুত বিস্ফোরক থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া নলহাটি ও রামপুরহাটে একজনই এই কারবারের হোতা। কয়েকমাস আগে পুলিস তাকে গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু লঘু ধারা দেওয়ায় সে জামিন পেয়ে ফের এই কারবার শুরু করেছে। এবার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভয়ে কেউই মুখ খোলার সাহস করে না। আতঙ্কিত বাসিন্দারা বলেন, মজুত বিস্ফোরকে যে কোনও সময়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। অথচ পুলিস পদক্ষেপ করছে না। কার্যত বারুদের স্তূপে রয়েছি আমরা। পুলিস সব জেনেও নীরব থাকায় চিন্তা বাড়ছে। কেন পুলিস পরিত্যক্ত গোডাউনগুলি ভেঙে দিচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁরা জেলা পুলিসের কর্তাদের কাছে সীমানায় নজরদারি বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন।



