সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের প্রায় কয়েকশো কোটি টাকা প্রতিবছর খরচ হয়। কিন্তু সেই খরচ সত্ত্বেও তারকেশ্বরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তেমন সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে না। প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে তারকেশ্বর শহর জুড়ে বিভিন্ন নালা ও খালের উপর বেআইনিভাবে তৈরি কালভার্ট। এর ফলে জল নিকাশিতে সমস্যা হচ্ছে, জমা জলে জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গুর মশা। নিকাশি ব্যবস্থা সচল না থাকার ফলে জমা জল নিষ্কাশনে ব্যর্থ হচ্ছেন পুরকর্মীরা। এদিকে পুরপ্রধান বলছেন, এইসব কালভার্ট নির্মাণের অনুমতি পুরসভা দেয়নি।
তারকেশ্বর পুরসভা এলাকায় মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৫। জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। বছরে রাজ্যের অন্যতম দু’টি মেলা অনুষ্ঠিত হয় তারকেশ্বরেই। বেআইনি কালভার্ট ছাড়াও এই শহরে নিকাশির অন্যতম সমস্যা রানের খাল ও তার সংযোগকারী নিকাশি নালাগুলির জরাজীর্ণ অবস্থা। পূর্তদপ্তরের নকশা অনুযায়ী, তারকেশ্বর বাজিতপুর চৌমাথা থেকে মন্দির যাওয়ার রাস্তার ডানপাশে প্রায় ৩০ ফুট চওড়া খাল ছিল। কিন্তু খালের পাড়ে বসবাসকারী সব বাসিন্দা নিজস্ব কালভার্ট তৈরি করেছেন। ফলে নিকাশি খালের চওড়া এসে দাঁড়িয়েছে ৬-১০ ফুটে। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় তৈরি হচ্ছে এই ধরনের বেআইনি কালভার্ট। সব দেখেও নির্বিকার প্রশাসন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৩ জন। আর ২০২৩ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৬৩। এই বছরে এখনও পর্যন্ত তারকেশ্বর পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর নেই। গত বছরে ডেঙ্গুর আক্রমণ যেখানে সবচেয়ে বেশি ছিল, সেই ১০, ১১, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে পুরসভার পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৬০ জন কাজ করছেন ডেঙ্গু নিবারণে। ৯ জুন থেকে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু হবে। ১০ জুন থেকে এই কর্মসূচিতে আরও কর্মী নিয়োগ করা হবে। ২০ জনের একটি বিশেষ দল পুরসভা এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে। ১৯-২৯ মে প্রত্যেকটি বাড়ি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বাতিল সামগ্রী সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মল সাথী, নির্মল বন্ধু সহ একটি দল এই কাজ করেছে। গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হলে স্কুলে স্কুলে ডেঙ্গু নিবারণে প্রচার চলবে। আবাসন ও ব্যবসায়ী সমিতি, প্রোমোটারদের নিয়েও বিশেষ বৈঠক করা হবে।
তারকেশ্বরের পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু জানান, ডেঙ্গু নিবারণে তারকেশ্বর পুরসভা পক্ষ থেকে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে পুরসভার পক্ষ থেকে নালা বা খালগুলির উপর কালভার্ট নির্মাণের কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই ধরনের নিয়ম বহির্ভূত কালভার্টের ফলে পুরসভার কর্মীরা নিকাশি নালা পরিষ্কার করতে পারছেন না। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই ১৩ জনকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিশেষ আইনি পদক্ষেপ করবে পুরসভা।