Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দ্বারকেশ্বরে বাঁধের উপর অবৈধ নির্মাণ, বানভাসির আশঙ্কা

প্রশাসনিক উদাসীনতায় আরামবাগ শহরের তালপুকুর থেকে পুরসভা কার্যালয় পর্যন্ত নদী বাঁধের ওপর ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে অবৈধ কাঁচা ও পাকা বাড়ি।

দ্বারকেশ্বরে বাঁধের উপর অবৈধ নির্মাণ, বানভাসির আশঙ্কা
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, আরামবাগ: প্রশাসনিক উদাসীনতায় আরামবাগ শহরের তালপুকুর থেকে পুরসভা কার্যালয় পর্যন্ত নদী বাঁধের ওপর ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে অবৈধ কাঁচা ও পাকা বাড়ি। সেখানে আবার একটি উপাসনা কেন্দ্রের তরফ থেকে নদীগর্ভের জায়গা রেলিং দিয়ে ঘিরে তালা লাগিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। শহরবাসীর অভিযোগ, নদী বাঁধের উপর বাড়ি নির্মাণের ফলে নদী বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে জেনেও পুরসভা কিংবা সেচদপ্তর কোনোপদক্ষেপ করেনি। দু’-একবার উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েই দায় সেরেছে। ফলে বাইরে থেকে উঠে আসা মানুষজন একের পর এক বাড়ি নির্মাণ করছে বাঁধের উপর কিংবা নদীগর্ভে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আগের সরকারকে একাধিকবার জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিষয়টিকে আমল দেওয়া হয়নি। ভোট ব্যাংক নষ্ট হওয়ার ভয়ে কোনো দলই ঘাটাতে চায়নি তাঁদের। আমরা নতুন সরকারকে বিষয়টি দেখতে অনুরোধ করছি। না হলে আগামী দিনে বাঁধ ভেঙে আরামবাগ শহর প্লাবিত হবে।আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, বিষয়টি দেখছি।

Advertisement

এই প্রসঙ্গে আরামবাগ সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আরামবাগ মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে আমরা সার্ভে করে রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেদেব।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ শহরটি আয়তনে ছোট হলেও শহরটির অবস্থানগত গুরুত্বের জন্যগ্রামগঞ্জ থেকে বহু মানুষ এসে এই শহরে বসবাস করছেন। এই শহরের একটি পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দ্বারকেশ্বর নদ। ওই নদীর বাঁধ এক সময় ফাঁকা ছিল। যার ফলে বাঁধ ফুটো হলে সহজেই সেই জায়গা চিহ্নিত করে মেরামত করা সম্ভব হতো। এখন ওই বাঁধের দু’ পাশে বাইরে থেকে উঠে আসা মানুষজন কাঁচা ও পাকা বাড়ি করে বসবাস করছেন। তালপুকুর থেকে আরামবাগ পুরসভা কার্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় নদী বাঁধের দু’ পাশে এমনকী নদীর গর্ভে পাকা বাড়ি তৈরি চলছে। আগে একজন ব্যক্তি কোনোরকমে মাথা গোঁজার জন্য বাড়ি করছে। তারপর তাঁদের আত্মীয়দের সেখানে নিয়ে এসে বাড়ি তৈরি করার জন্য জায়গা করে দিচ্ছে। সরকারি বাঁধ হওয়ায় টাকা লাগছে না। তাই আরামবাগ শহরের পরিষেবা নিতে বিনা পয়সায় জায়গার লোভে দিন দিন বাঁধের উপর বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে নদী গর্ভের জায়গা রেলিং দিয়ে ঘিরে একটি উপাসনা কেন্দ্রের তরফ থেকে দখল করে রাখা হয়েছে। সেখানে খাওয়া-দাওয়ার রান্না করার জন্য বড় একটি কড়াও রাখা রয়েছে। সেখানে যাতে কেউ না প্রবেশ করতে পারে তার জন্য চতুর্দিক কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রেলিং বসিয়ে তাতে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। শহরবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাঝে মধ্যে সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে নোটিসদিয়েই দায়সারা হচ্ছে। অবৈধ নির্মাণগুলি ভাঙার কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এদিকে সামনেই বর্ষা। জায়গা দখল হয়ে থাকায় নদী বাঁধ মেরামত করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক নদীবাঁধ মেরামতকারী এক ঠিকাদার বলেন, বেশিরভাগ সময় ইঁদুর বাঁধে ফুটো করে দেয়। জল বাড়লে ওই ফুটো দিয়ে বন্যার জল ধীরে ধীরে শহরে প্রবেশ করতে থাকে। এখন নদীর পাড়ে বাড়ি হয়ে যাওয়ায় ফুটো চিহ্নিতকরণ খুবই সমস্যার বিষয়। এখনই যদি অবৈধ নির্মাণ না সরানো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।  ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ