নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হলদিয়া মহকুমাজুড়ে অবৈধ লোটোর কারবার জাঁকিয়ে বসেছে। হলদিয়া, ভবানীপুর, দুর্গাচক, নন্দীগ্রাম থানা এলাকায় অবৈধ ওই খেলায় সর্বস্বান্ত হচ্ছেন ছোট-মাঝারি দোকানদার, টোটো চালক থেকে বেকার যুবকরাও। অভিযোগ, হলদিয়ায় পুলিস অফিসারদের একাংশের মদতে লোটো কারবারিরা ধারাবাহিকভাবে কাউন্টারের সংখ্যা বাড়িয়েই চলছে। উত্তর ২৪পরগনা, হাওড়া, কলকাতার লোটো জগতের মাস্টার মাইন্ডরা এজেন্ট নিয়োগ করে অলিতে গলিতে কাউন্টার পেতে রক্তচোষা জোঁকের মতো টাকা লুটছে। মাঝেমধ্যে দু’-এক জায়গায় পুলিসি অভিযান হলেও এই অবৈধ ব্যবসার শিকড় উপড়ে ফেলতে পুলিসকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে ৩০টির বেশি লোটো কাউন্টারে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা উড়ছে। কারখানার শ্রমিক, থেকে পরিবহণ কর্মী, দোকানদার, বেকার যুবক ভাগ্য বদলের নেশায় কাউন্টারে ঢুকে পড়ছেন। ভাগ্যকে দোষ দিয়ে অধিকাংশ নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সাময়িক হতাশা কাটানোর জন্য নেশার ট্যাবলেটও মজুত। গিলে নিলেই সব হতাশা নিমেষে উধাও। ভবানীপুর থানার বিসি রায় হাসপাতাল মোড়, ইমামি গেট, দোকানগড়া, মোরাম বাসস্টপ, গেমাডাব ও সিটি সেন্টার মোড়, দুর্গাচক থানার মঞ্জুশ্রী সিনেমা মোড়, হলদিয়া থানার রানিচক বাজারে সকাল থেকেই ধূপ জ্বালিয়ে এই অবৈধ কাউন্টার খুলে ফেলা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়ছে। অধিকাংশ হা-হুতাশ করে বাড়ি ফিরছেন। এটা প্রতিদিনের ছবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিস সব জেনেও চুপ। কারণ, পুলিসের একাংশের সঙ্গে লোটো কারবারিদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মাটিতে এই অবৈধ কারবার মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়েছে।
হলদিয়া মহকুমার অন্তর্গত নন্দীগ্রাম থানা এলাকাতেও দেদার এই কাউন্টার চলছে। ওই থানার ভাঙাবেড়্যা, সোনাচূড়া, নন্দীগ্রাম বাসস্টপ এলাকায় সাধারণ দোকানের মতোই লোটো কাউন্টার রাতদিন খোলা। দেখে বোঝার উপায় নেই, এই খেলা অবৈধ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় পাঁচ থেকে ছ’টি টিম আলাদা আলাদা কোডে লোটো কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ছিল সাহেব, বিবি, গোলাম-তুরুপের তাসে ভাগ্য নির্ধারণ হতো। এখন সেসব নেই। কম্পিউটারের যুগে নিজস্ব সফ্টওয়্যারে ইংরেজি কোডে ঝুলে থাকে ভাগ্য। তাতে লক্ষ্মী হাসলে কিস্তিমাত। না হলেই সর্বনাশ। কাঁচা, পাকা গুমটি দোকানের দরজায় পুরু পর্দা ঝুলিয়ে ভিতরে এই অবৈধ কারবার চলে। প্রত্যেক কাউন্টারে এজেন্ট বসে থাকে। হাতে গোছা গোছা ৫০০টাকার নোট। টিকিট না কাটলে ভিতরে ঢোকার অনুমতি পাওয়া যায় না। তবে, কাউন্টারের ধারেকাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে ভাগ্য পরীক্ষার ব্যর্থ টিকিটগুলি।
কলকাতা ও শহরতলির লোটো কারবারিদের প্রধান টার্গেট হলদিয়া শিল্পাঞ্চল। কারণ, এখানে জুয়াড়ি বেশি। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক থেকে গাড়ি চালক ও খালাসি, ছোট-মাঝারি দোকানদার অনেকেই ভাগ্য বদলের নেশায় কাউন্টারে ভিড় জমান। নির্দিষ্ট কোডে টিকিট কাটে। কোড মিললে মোটা পুরস্কার। আর তা না হলে গেল সব টাকা। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, লোটো একটি অবৈধ খেলা। এটি বন্ধ করার জন্য পুলিসকে বলেছি। পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, লোটোর বিরুদ্ধে আমাদের প্রায়ই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারও করা হয়। আবারও অভিযান চালানো হবে।