নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা! পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী আর অভিভাবকদের ভিড়। তা দেখে অবাক পথচলতি মানুষ। ‘এখন আবার কীসের পরীক্ষা? এই তো এসএসসি পরীক্ষা হল। আজ আবার কী?’ প্রশ্নের উত্তর, ‘উচ্চ মাধ্যমিক।’ এবার প্রথম পুজোর মুখে হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার।
পুজোর মুখে উচ্চ মাধমিক, তার জন্য কি পরীক্ষার্থীদের একটু হলেও মন খারাপ? বাংলা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে যাদবপুর বিদ্যাপীঠের বাইরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছিলেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। আর গরফা গার্লস হাই স্কুলের একদল পরীক্ষার্থী একযোগে বললেন, ‘পুজোর মুখে পরীক্ষা পড়েছে ঠিকই। কিন্তু একদিক থেকে ভালোই হল। পরীক্ষা শেষ হলে খোলা মনে পুজোয় আনন্দ করতে পারব।’
পরীক্ষা শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর। গরফা গার্লসের পড়ুয়া লক্ষ্মী মণ্ডল, লিজা মণ্ডল বললেন, ‘পরীক্ষা শেষ হলেই কেনাকাটা শুরু। এখন তো পরীক্ষা। তার মাঝে ওসব নিয়ে ভাবছিই না।’ এই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক হচ্ছে সেমেস্টারে। এমসিকিউ অর্থাত্ অপশনের মধ্যে থেকে উত্তর খুঁজতে হবে পরীক্ষার্থীদের। পড়ুয়াদের বক্তব্য, ‘এ বছর তো আমরাই প্রথম পরীক্ষা দিচ্ছি। তাই আমাদের সামনে কোনও সাজেশন নেই। তাও স্যারেরা বলে দিয়েছেন কীরকম প্রশ্ন আসতে পারে।’ এনকে পাল স্কুলের শিবম খুব সিরিয়াস। পুজো প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বললেন, ‘পুজো তো আসতেই থাকবে। পরীক্ষা তো একবারই আসবে। তাই পরীক্ষাটাই মন দিয়ে দিতে হবে।’ আর এক পরীক্ষার্থী রাহুল বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘এমসিকিউ প্রশ্নর জন্য আমাদের খুবই খুঁটিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। তবে এতে নম্বর ভালো উঠবে বলে আশা করছি। একদিক থেকে ভালোই হয়েছে।’
এদিনের পরীক্ষা ছিল মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে পরীক্ষার্থীদের মুখে দেখা গিয়েছে হাসি। অনেকে বললেন, ‘বাংলা প্রশ্ন ভালোই হয়েছে। পরীক্ষাও ভালো দিয়েছি।’ ছেলে-মেয়েরা যখন পরীক্ষা দিতে প্রবেশ করলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে তখন অভিভাবকদের আলোচনাসভা বসল। এক অভিভাবকের কথায়, ‘ছোটবেলায় তো সকলেই পুজোর মুখেই পরীক্ষা দিয়েছে। তাই অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু তবুও পুজোর মুখে পড়তে বসানো কঠিন।’ পাশ থেকে আবার একজন বলে উঠলেন, ‘এখন ওরা অনেকটাই বড় হয়েছে। নিজেরা বুঝতেও শিখেছে। তাই আগের মতো অতটা সমস্যা হয় না।’ ইতিমধ্যেই আবার দক্ষিণ কলকাতার পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে মেট্রো বন্ধ হওয়ার খবর চলে এসেছে। তাই বেরিয়ে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাড়ি যাবেন, সেই নিয়েও আলোচনা চলল। পরীক্ষা শেষে মূলত দক্ষিণ কলকাতায় বাড়ি ফিরতে কালঘাম ছুটল পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের। অটোর জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁদের। তার সঙ্গে বাঁশদ্রোণী, গড়িয়া, নাকতলা এলাকায় ভিড় ঠাসা বাসে উঠতেও নাকাল হতে হয়েছে বহু পরীক্ষার্থীকে। তবে সবমিলিয়ে প্রথম দিনে উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই কেটেছে বলে অনেকের মত।