Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নকল রেডিও অ্যাক্টিভ মেটেরিয়াল বিক্রির ছক, নজরে আইআইটির এক অধ্যাপকও

নকল রেডিও অ্যাক্টিভ মেটেরিয়াল বিক্রির ছক, নজরে আইআইটির এক অধ্যাপকও
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: নকল রেডিও অ্যাক্টিভ মেটেরিয়ালটিকে প্রতারণা করে কোনও দেশি বা বিদেশি এজেন্সিকে বিক্রি করাই ছিল দুর্বৃত্তদের আসল উদ্দেশ্য। বৃহস্পতিবার ধাতব উপাদানটি উদ্ধার করার পর হোটেল থেকে ধৃত দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনটাই জানতে পেরেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস। ওই ধাতব বস্তুটিকে ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল। তবে দুষ্টচক্রের এই কাজে যে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের উপরে অনেক বড় বড় মাথা রয়েছে বলে তদন্তে পুলিস জেনেছে।‌ এমনকী, আইআইটি কলেজের এক অধ্যাপকের নামও এই প্রতারণা কাণ্ডে পুলিসের সামনে এসেছে। সামগ্রিক ‌ঘটনায় ওই হোটেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্তের স্বার্থে ওই হোটেলে নিয়ে গিয়ে এদিন দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ওই হোটেলে থাকা অভিযুক্তদের দু’টি মোবাইল ও একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এখন এই ঘটনায় সঙ্গে জড়িত মূল কিংপিনের খোঁজে শান্তিনিকেতন থানা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দিন ২০ আগে শান্তিনিকেতন এসেছিল রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা কপিলকুমার জৈন ও বিহারের কাঠারিবাগ জেলার রাজীব জয়সওয়াল। তারা বিভিন্ন হোটেল ও রিসর্ট পাল্টে পাল্টে থাকছিল। মূলত তাদের কাজকর্ম ঘুণাক্ষরেও যাতে কেউ টের না পায়, সেজন্যই তারা এই পন্থা অবলম্বন করছিল। ‌সর্বশেষ শ্রীনিকেতনের এক অভিজাত রিসর্টে ওঠার পর গোটা হোটেলটিই তারা বুকিং করেছিল। এরপরে সেখানেও তাদের গোপন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। সেখানে অচেনাদের আনাগোনাও চলছিল। 

Advertisement

বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মুখে একটাই প্রশ্ন শান্তিনিকেতনই কেন? এর উত্তরে পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, হলিডে ডেস্টিনেশন হিসাবে শান্তিনিকেতন এমনিতেই জনপ্রিয়। তবে গরমের কারণে এই মুহূর্তে পর্যটক কম। বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ও সোনাঝুরি সংলগ্ন হোটেলগুলিতে একটু আধটু ভিড় থাকলেও এলাকার বাইরের হোটেল, রিসর্টগুলি ফাঁকা বললেই চলে। এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়েছিল ধৃতরা। বোলপুর আদালতের নির্দেশে এই মুহূর্তে ওই দুই ব্যক্তি সাতদিনের ‌পুলিসি হেফাজতে রয়েছে। দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর মাঝে শনিবার দুই অভিযুক্তকে ওই রিসর্টে নিয়ে গিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড দেখতে চায় পুলিস। 
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে ওই ধাতব বস্তু ঝাড়খণ্ড থেকে এনে প্রতারণা করে তারা বিক্রির ছক কষেছিল। তাদের ওপরে যে মাথা অর্থাৎ কিংপিনের তেমনটাই নির্দেশ ছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। এই ঘটনায় আইআইটির যে অধ্যাপকের নাম পুলিস পেয়েছে, তাকেও খুব তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে ওই হোটেল কর্তৃপক্ষ কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন। হোটেল মালিক সাধন দাসকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি  কিছু বলতে অস্বীকার করেন। বীরভূম জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেন, এই প্রতারণা কাণ্ডে আরও যারা জড়িয়ে রয়েছে, শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ