জম্মু ও নয়াদিল্লি: ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদীপ জ্বালিয়ে পালিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। সেই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতির কারণে ‘জরিমানা’ করা হচ্ছে আইআইএম জম্মুর ছাত্রছাত্রীদের। এমনই অভিযোগ কংগ্রেস সাংসদ সইদ নাসির হুসেনের। তাঁর দাবি, আইআইএম জম্মুর স্টুডেন্ট কাউন্সিল নোটিস পাঠিয়ে ফরমান জারি করেছে, অনুপস্থিতির যথাযথ কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। নাহলে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
কর্ণাটকের রাজ্যসভার সাংসদ সইদ নাসির জম্মু ও কাশ্মীর কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক পদে রয়েছেন। আইআইএম জম্মুর স্টুডেন্ট কাউন্সিলের ইস্যু করা একটি ‘নোটিস’ এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন এই কংগ্রেস সাংসদ। সেই ‘নোটিসে’ অনুপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের লিখিত জবাব পেশের জন্য শুক্রবার রাত পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। হুসেনের প্রশ্ন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কেন? এটা কি আইআইএম-এর কোনো শিক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব, নাকি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রচারকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়েছে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত স্বাধীনচেতা মনন গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক নেতাদের উৎসবে যোগ দিতে বাধ্য করা বা শাস্তির ভয় দেখানো নয়। বিজেপির এই প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড আমাদের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে দূরে রাখা উচিত।’ পড়ুয়াদের কাছে আসা ইমেলের যে স্ক্রিনশট নাসির শেয়ার করেছেন তাতেপ্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতিই একমাত্র গ্রাহ্য হবে। তবে এজন্য বেড রেস্টের সুপারিশ সহ সঞ্জীবনীর (কেন্দ্রীয় সরকার চালিত বিনামূল্যের জাতীয় টেলি-মেডিসিন পরিষেবা) আনুষ্ঠানিক নোট থাকতে হবে। যদিও কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আইআইএম জম্মুর পড়ুয়া বিষয়ক চেয়ারপার্সন ব্রিগেডিয়ার নীরজ সোনি। তিনি বলেন, কোনো ছাত্রছাত্রীকেই জরিমানা করা হয়নি। তাঁর আরও বক্তব্য, এটা সাধারণ পদক্ষেপ। যেমনটা আমরা স্বাধীনতা দিবস বা গান্ধী জয়ন্তীতে করে থাকি। জরিমানার ব্যাপারে আমরা মোটেও কঠোর নই। এবারও কোনো শিক্ষার্থীকে জরিমানা করা হয়নি।