Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অবিদ্যা

যেমন আলোর আবির্ভাবে অন্ধকার পালায়, তেমনি বিদ্যা লাভ হলে সমস্ত অবিদ্যা পালায়—অর্থাৎ কাম ক্রোধ, লোভ লাভ, পূজা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি অবিদ্যা দূর হয়।

অবিদ্যা
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

যেমন আলোর আবির্ভাবে অন্ধকার পালায়, তেমনি বিদ্যা লাভ হলে সমস্ত অবিদ্যা পালায়—অর্থাৎ কাম ক্রোধ, লোভ লাভ, পূজা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি অবিদ্যা দূর হয়।

Advertisement

‘‘প্রভু কহে বিদ্যা মধ্যে কোন বিদ্যা সার।
রায় কহে ভক্তি বিনা বিদ্যা নাহি আর।।’’
অন্তরে ভক্তির উদয় হলে অসূয়া, অভিমান, অহংকার কিছুই আর আত্মার উপর আধিপত্য করতে পারে না। ছোটো বড় সকলকে ভক্তি করতে, পূজা করতে শিখ—তখন সবই পাওয়া যায়,—যা চাওয়া যায়। শান্তি, সুশীল ও নন্দীর মঙ্গল হোক। গোকুলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কিছুদিন দুর্গানগরে বাস করতে পার। অজিতবাবুকে বড় ভাই-এর মত সম্মান দেবে। গুরুজনের মর্যাদা লঙ্ঘন করলে আয়ুক্ষয় হয়, কীর্তি যশ ও পুণ্যফল নষ্ট হয়। মা, একজন সন্ন্যাসী মুক্তপাখী। সে পরিবার পোষণের জন্য চাকরী করছে না—মানুষের ঘরে শিক্ষার কল্যাণদীপ জ্বালবার জন্য সে স্বেচ্ছায় সেবাব্রত গ্রহণ করেছে—কে তার কি করবে? যে কোনো অবারিত আনন্দের আকাশে ডানা মেলে সে অনেক অনেক দূর চলে যাবে—ধূলোকাদা ছড়িয়ে কেউ তার অসম্মান করতে পারবে না, ম্লান করতে পারবে না। সে তখন দূর থেকে স্বর্গীয় সুধা ছড়াবে—এইসব অবিমৃষ্যকারীদের উদ্দেশ্যে। কেউ তখন অবাক হয়ে তাকাবে তার পানে, কেউ আত্মধ্বিকারে করবে অশ্রুমোচন। ঈশ্বরের দূতকে ঈশ্বরই রক্ষা করেন। মানুষ শত কাদা ছড়িয়েও তাকে হেয় করতে পারে না। 
হিরণ্যকশিপুর মত প্রবল পরাক্রান্ত সম্রাটকেও এক বালকের কাছে চরম পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। ‘যেখানে ধর্ম সেখানে জয়। ধর্মের রক্ষক স্বয়ং ভগবান।’ এই পরম সত্যটি ভুলে যেয়ো না।
এই দিব্যজীবনের উত্তরাধিকার তোমাকে নিরলস সাধনার ভিতর দিয়েই পেতে হবে। যিনি সকল ঐশ্বর্য ও মাধুর্যের আধার, তাঁর সঙ্গে স্থাপন করতে হবে তোমার অন্তরের যোগ। এই যোগসাধনের রয়েছে অনেক উপায়—যেমন নিষ্কাম কর্ম, বিশুদ্ধ জ্ঞান ও আন্তরিক ভক্তি—শেষোক্ত পন্থাটি বর্তমান কালও তোমাদের স্বভাবের অধিক অনুকূল। একটি প্রাণীকে, এমনকি একখণ্ড শিলাকেও যদি তেমন করে ভক্তি করতে পার, এর মধ্য দিয়েই তুমি পরম সত্য ও চরম আনন্দ লাভ করবে। এই তো তোমার জীবন গঠন করার সময়—একটি ক্ষুদ্র বাসনার অন্ধকার মহলে যেন তোমার জীবন না কাটে—কোনো মহৎ চিন্তায় বা কল্যাণকর্মে যেন কাটে তোমার দিনগুলি—যা তোমার জীবনকে দিবে মহিমা, আত্মাকে দিবে আলো। তোমার জীবন ভগবৎপ্রসাদে ধন্য হয়ে উঠুক। একান্তমনে সকলকে ভালবাস, শুধু ভালবাস—নিজেকে নিঃশেষে বিলিয়ে দাও। আত্মদানে অপার আনন্দ। বিমুখ হয়ো না কোনো ব্যথা বঞ্চনায়। তোমার প্রসারিত প্রসন্নহস্ত সংকুচিত করো না কারো সম্মুখ থেকে। তোমার অন্তরে জ্বলুক প্রেমের অনির্বাণ আলোশিখা, যে আলোয় দেখা যায় সত্যের মুখ।
এ জগতে একটি মানুষকেও ভালোবাসতে পারলে ধন্য হয়ে যাবে। একটি মনের মধ্যে মিলিয়ে যাও, ডুবে যাও—এই ঐকান্তিক ভালোবাসাই তোমাকে দেবে পূর্ণতা, চরম পুরস্কার—প্রিয়র মধ্যে পাবে প্রাণের দেবতার পরিচয়। যেখানে কলহ, সেখানে কলি বাস করেন। আত্মা যদি সর্বদা দীনভাব অবলম্বন করে থাকে, তা হ’লে সেখানে আধিপত্য করার সুযোগ পায় না। ধর্মপথ সকলের পায়ের নিচু দিয়ে। যত নিচু হবে, ততই উন্নত হবে। সকলের মধ্যে ভগবান আছেন। এই সত্য স্মরণ রেখে মানুষকে ভক্তি করবে। পূজা করবে। অন্যকে দুঃখ দিলে, কাঁদালে—নিজেকেও দুঃখ পেতে হয়, কাঁদতে হয়। লোকসঙ্গ বেশী করবে না। এতে সময়ের বড় অপচয় হয়। 
পত্র-সাহিত্যে শ্রীপরমানন্দ (প্রথম খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ