ভবসিন্ধু মণ্ডল, হাইফা (ইজরায়েল): মাঝখানে ব্যবধান মাত্র ছয়-সাতমাসের। আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে বছর দুয়েকের চেনা হাইফা শহরটা! দুবছর আগে উত্তর ২৪ পরগনায় বাগদার সিন্দ্রানি গ্রাম থেকে হাইফা শহরে এসেছি। একটি সংস্থায় কনস্ট্রাকশনের কাজ করছি। শনিবার কাজ করতে করতে মোবাইলে মেসেজ আসে। মোবাইলে অ্যালার্ট আসতেই ছুটে বাঙ্কারে ঢুকে যাই প্রাণ বাঁচাতে। বেজে ওঠে সাইরেন। মিসাইলের শব্দ, পালটা মিসাইল ধ্বংস করার শব্দ। অপেক্ষা করি। সিগন্যাল পেয়েই বাইরে বেরিয়ে দেখি, ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে আকাশ। মাস ছয়েক আগেও ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল হামলা হয়েছিল এই শহরে। ইজরায়েলের শক্তিশালী ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ শত্রু পক্ষের মিসাইল সহজেই ধ্বংস করেছিল। শনিবার থেকে আবার একই ছবি। তবে এবারও এদেশের ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ সেগুলি ধ্বংস করেছে। দু-একটি মিসাইলের টুকরো মাটিতে পড়লেও আমরা নিরাপদেই আছি। এদেশের সরকার দেশের বাসিন্দা ও বাইরের দেশের নাগরিকদের প্রতি যথেষ্ট দায়িত্বশীল। তাঁদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয় দেশের সরকার। প্রতিবারই মিসাইল হামলার আগে আমাদের মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। এর ৩০-৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই বাঙ্কারে ঢুকতে হয়। কখনো বাঙ্কারে যেতে যেতে কিংবা সেখানে যাওয়ার পর বেজে ওঠে সাইরেন। তবে এখনকার বাসিন্দারা বাঙ্কারে তাঁদের সঙ্গে আমাদেরও জায়গা করে দেন। শনিবার সারাদিন হামলার পর রাতে কিছুটা শান্ত ছিল হাইফা শহর। আগে থেকেই রবিবার কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছিল সংস্থা। সেই কারণে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। কিছুক্ষণ পরই মেসেজ আসে বাঙ্কারে যাওয়ার। বেজে ওঠে সাইরেন। প্রাণ বাঁচাতে আবারও ছুট। বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে দেখি, আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। ইজরায়েলের কাছে হাইফা শহর অর্থনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রকৃতিও সুন্দর। তবে এখনো পর্যন্ত শহরে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি কিছু হয়নি। বেশিরভাগ মিসাইল আকাশেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তবুও সাইরেনের শব্দে আতঙ্কই লাগে। দৌড়ে গিয়ে ঢুকে পড়ি বাঙ্কারে।



