তেহরান: আমেরিকা ও ইরানের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রাণ হারিয়েছিলেন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। কিন্তু টানা যুদ্ধের জেরে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান করা যায়নি। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হামলার ভয়ে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে কিছুটা শান্ত হয়েছে পশ্চিম এশিয়া। এই পরিস্থিতিতে ১২৬ দিন পর শনিবার শুরু হচ্ছে খামেনেইয়ের শেষকৃত্য প্রক্রিয়া। মোট ৬ দিন ধরে চলবে এই প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে খামেনেইয়ের দেহ ইরানের পতাকায় ঢাকা কফিনে রাজধানী তেহরানের অন্যতম প্রধান ধর্মস্থল ইমাম খোমেইনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ প্রাঙ্গনে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে থাকছে যৌথ হামলায় নিহত খামেনেইয়ের পরিজনের কফিনও। খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।
জানা গিয়েছে, শনিবার সেখানে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত হতে পারে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো শেষকৃত্য অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। তাই তেহরানের সঙ্গে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরজুড়ে বড়ো মাপের জমায়েতের আয়োজন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কয়েক কোটি মানুষকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে চাইছে ইরান প্রশাসন। উদ্দেশ্য একটাই, ইরানের শাসন ব্যবস্থার প্রতি যে মানুষের আস্থা অটুট, তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।
তেহরান সূত্রে খবর, শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শনি ও রবিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা থাকবে খামেনেইয়ের দেহ। সোমবার তেহরান থেকে শেষকৃত্যের মিছিল শুরু হবে। পরদিন সেই মিছিল পৌঁছাবে কোয়ম শহরে। নাজাফ ও কারবালা শহরও ছুঁয়ে যাবে মিছিল। ৯ জুলাই খামেনেইয়ের জন্মস্থান মাশাদ শহরের ইমাম রেজা মসজিদে শেষ হবে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। সেখানেই খামেনেইয়ের দেহ কবর দেওয়া হবে। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারতের তরফে বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আটা হাসনাইন ও বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা উপস্থিত থাকতে পারেন। পাকিস্তানের তরফে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এছাড়া ইরান, আফগানিস্তান ও ইরানের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। এদিকে, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যদি আমেরিকা বা ইজরায়েল হামলা চালায়, তাহলে ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সেনা। বৃহস্পতিবার ইরানি সেনার সদর দপ্তরের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি বলেন, ‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক
করছি। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে হামলার কঠোর জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’